ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বেলতলী গ্রামে একটি পরিবারকে রাস্তা বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবারটির সদস্যরা দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, তাদের শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
বেলতলী গ্রামের বাসিন্দা লিটন, পেশায় একজন অটোরিকশাচালক দিনমজুর। তার আয়েই সংসার চলে। কিন্তু সম্প্রতি তাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় বেড়া বসিয়ে দেওয়ায় তিনি প্রতিদিন অন্যের উঠান দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা এখন প্রতিবেশীদের কাছেও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিপদে পড়েছে লিটনের ছোট ছোট শিশুরা। রাস্তার কারণে তারা আর স্কুলে যেতে পারছে না। প্রথমে কান্নাকাটি করলেও এখন তাদের চোখে হতাশা। তাদের মা-বাবা জানান, "ওদের চোখে এখন প্রশ্ন—আমরা কি স্কুলে যেতে পারব না? কেন আমাদের আটকে রাখা হলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা দিতে পারি না, শুধু কান্না চেপে রাখি।"
একই অবস্থার শিকার রিপনের পরিবারও। তাদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত হুমকি, ভয়ভীতি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকার অনেকে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে চাইলেও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
ষড়যন্ত্র কারী চক্রের' বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রামের কিছু ব্যক্তি, যাদেরকে তারা 'মানুষরূপী অমানুষ' আখ্যা দিয়েছেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই রাস্তায় বেড়া বসিয়ে পরিবার গুলোকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ কালু মিয়া, তার ছেলে গোলাম জিলানী ও গোলাম কিবরিয়া, খলিল মিয়া ও লেদু মিয়া। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য মতে, এরা একটি চক্রান্তের অংশ, যারা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।
স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকবার সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই বেড়া সরিয়ে দেওয়ার পর আবার তা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ভুক্ত ভোগীদের ওপর নির্যাতনের একটি পদ্ধতিগত অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সামিউল ইসলামের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলছেন, "আমরা কারও জমি দখল করিনি, কারও সঙ্গে ঝগড়া করিনি। শুধু আমাদের চলার রাস্তা ফিরিয়ে দিন। আমাদের সন্তানদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিন।" তারা আশা করছেন, মানবিক বিবেচনায় ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বে দ্রুত এই বেড়া সরিয়ে জনচলাচল নিশ্চিত করা হবে।