ই-পেপার শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

অবশেষে উঠে এল জিয়াউর রহমানের পলাতক খুনিকে গ্রেপ্তারের গল্প

আমার বার্তা অনলাইন:
১৮ জুলাই ২০২৬, ১৩:১১

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা সাবেক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিজের আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মূলত মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে এবং নাকের নিচে থাকা একটি জন্মদাগের ওপর ভিত্তি করে বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন অধরা থাকা এই আসামিকে ধরতে তার মেয়ের কর্মস্থলের তথ্যটি প্রথম সূত্র হিসেবে কাজ করে। তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক মাস ধরে মেয়ের গতিবিধি ও কর্মস্থল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাড়ি চিহ্নিত করেন। ছদ্মবেশে বাড়িটি নজরদারিতে রাখার পর মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি পুরোনো ক্লু—নাকের ঠিক নিচে থাকা একটি আঁচিল বা কালো দাগ—শনাক্তকরণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

বুধবার গভীর রাতে চূড়ান্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবির একটি চৌকস দল সাধারণ পোশাকে ওই বাসায় গিয়ে কড়া নাড়ে। দরজা খোলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি না দেখিয়ে নিজেদের মেয়ের অফিসের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। এত রাতে অফিসের লোকজন আসায় ভেতর থেকে সন্দেহ নিয়ে এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি এগিয়ে আসেন এবং রাতে আসার কারণ জানতে চান।

ডিবির কর্মকর্তারা তখন কৌশলগতভাবে ওই ব্যক্তির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাড়ির অল্প আলোতেই তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত জন্মদাগটি দেখতে পান। অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে ওই ব্যক্তি উত্তর দেন, ‘আমি মোজাফফর, মেয়ের বাবা।’ নিজের মুখে এ কথা স্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গেই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ডিবির দল তাকে হাতকড়া পরায়।

মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থান এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেজর মোজাফফর। আক্রমণের রাতে তিনি ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। মোজাফফরই সশরীরে রাষ্ট্রপতিকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন এবং ঠান্ডা মাথায় সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন—‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’।

১৯৮১ সালের ৩১ মে সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর নিহত হলে মোজাফফর বুঝতে পারেন তার বাঁচার কোনো পথ নেই। পরবর্তীতে সামরিক আদালতে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হলেও মোজাফফর এবং তার সহযোগী মেজর এস এম খালেদ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানকালে তিনি নিজের আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেন। সম্পূর্ণ নতুন ছদ্মনাম ধারণ করে এবং চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন এনে তিনি সেখানে থাকতেন। কল ট্র্যাকিং এড়াতে পুরোনো চেনা পরিমণ্ডল ও পারিবারিক যোগাযোগের সব সূত্রও তিনি বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করেন। কেবল ভারতেই নয়, ভুয়া নাগরিকত্ব ও জাল নথির সাহায্যে পাসপোর্ট তৈরি করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেছেন। এ কারণেই ইন্টারপোল বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় তার আসল নামে কোনো হদিস পাননি।

জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফেরেন এবং রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা বনানী ডিওএইচএসে বসবাস শুরু করেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে এলাকাটি পরিচিত হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে রাজনীতিবিমুখ এক বয়োবৃদ্ধ সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ফলে প্রতিবেশীদেরও সন্দেহ করার কোনো কারণ ছিল না।

গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেন একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। এ কারণে প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে এবং তাদের নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়ার (জুডিশিয়াল প্রসেস) অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানালো কসোভো

বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কসোভোর

প্রধানমন্ত্রীর ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত নয়: শামা ওবায়েদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে জোর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকায় সফররত ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি)

কসোভোর সঙ্গে বাণিজ্য-অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা (ইএফটিএ)
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমানের ভারত সফর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আয়োজনের চেষ্টা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানালো কসোভো

প্রধানমন্ত্রীর ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত নয়: শামা ওবায়েদ

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫১২, মামলা ৪৮

রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের আর্থিক শর্তে কী আছে, বিচ্ছেদে লাভ কার!

দেশের বাজারে এবার কমে গেল সোনার দাম

ডজনে ১০ টাকা কমেছে ডিমে, আগের দামেই মাছ-মাংস

তানজিদের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে দাপুটে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে জোর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কসোভোর সঙ্গে বাণিজ্য-অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ

সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম অ্যালামনাই ডিনারের মাধ্যমে এসজি৬১ উদযাপন

কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন, যা জানাল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

সরকারের সমালোচনায় কোনো বাধা নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বন্দরগুলোতে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ অবরোধের ইঙ্গিত হেগসেথের

স্থগিত আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র জমায় নতুন নির্দেশনা মাদরাসা বোর্ডের

মালয়েশিয়ায় অ্যান্ডি হলকে ৫ লাখ রিঙ্গিত জরিমানা আদালতের

ব্যাংক থেকে তোলা প্রবাসীর সাড়ে ২৩ লাখ টাকা ছিনতাই, উদ্ধার ১৭ লাখ

চট্টগ্রামে গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ চালকদের