
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে গাজায় অস্ত্রবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে এই বোর্ড গঠন করা হলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। তবে এই উদ্যোগ জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে নতুন কোনও সমান্তরাল বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
স্বঘোষিত এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গাজা যুদ্ধ বিরতির বাইরেও বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই বোর্ডকে ব্যবহার করতে চান। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “একবার এই বোর্ড পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হয়ে গেলে, আমরা যা চাই তাই করতে পারব। তবে আমরা জাতিসংঘের সঙ্গেই কাজ করব।” তিনি আরও বলেছেন যে, জাতিসংঘের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে যা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগ দিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, বোর্ডের স্থায়ী সদস্যদের প্রত্যেককে ১ বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) করে তহবিল দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আহ্বানে অধিকাংশ প্রধান বিশ্ব শক্তি এবং ঐতিহ্যগত মিত্ররা এখন পর্যন্ত কোনও সাড়া দেয়নি বা খুব সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
কারা আছে, কারা নেই
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও বিশ্বের প্রধান ক্ষমতাধর রাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিনিধিকে সেখানে দেখা যায়নি।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, তুরস্ক, বেলারুশ ও হাঙ্গেরিসহ প্রায় ৩৫টি দেশ এই বোর্ডে যোগ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েল ও হাঙ্গেরি এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে ফ্রান্স ও ব্রিটেন সরাসরি যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে তারা প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে, আর চীন এখন পর্যন্ত নীরব।
ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবের মাধ্যমে এই বোর্ডের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘের মুখপাত্র রোলান্দো গোমেজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, জাতিসংঘ কেবল গাজা শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটেই এই বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর বাইরে বোর্ডের অন্য কোনও কার্যক্রমে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ বিশ্ব কূটনীতি এবং দ্বন্দ্ব নিরসনের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতিসংঘের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে। তবে ট্রাম্পের দাবি, তার এই বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে জাতিসংঘের সমন্বয় বিশ্বের জন্য অনন্য কিছু বয়ে আনবে।
আমার বার্তা/এমই

