
বাংলাদেশের দিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে কাউকে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ ধরনের যেকোনো প্রচেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিহত করবে এবং ভবিষ্যতেও এ অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
সোমবার (১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্তে পুশইন নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওনাদের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরে, নতুন সরকার আসার পরে যতবার ভারতের সাথে আমাদের কথা হয়েছে, তারা ইতিবাচক কথা বলেছে যে, পুশ ইন তারা করবে না এবং অন্যান্য যেসব জটিলতা তাদের সাথে আমাদের হচ্ছে, ভিসাসহ অন্যান্য ব্যাপারে, তারা ইতিবাচকদের সাড়া দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আশা করব যে ভারত সরকার এ ব্যাপারে পজিটিভ ভূমিকা রাখবে এবং যেই প্যারাডাইম শিফটের কথা আমরা শুনছি যে, তারা তাদের ফরেন পলিসি বাংলাদেশের ব্যাপারে কী রকম হবে, সেটা তারা সিদ্ধান্ত নেবে। সে সিদ্ধান্তটা যেন ইতিবাচক হয়, সেটা আমরা আশা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি সেটা ইতিবাচক না হয়, সেটাতো অবশ্যই তাদের সাথে পলিটিক্যাল পর্যায়ে, ডিপ্লোমেটিক পর্যায়ে কথা বলব, কথা বলে সেটা সমাধান করার চেষ্টা করব। কিন্তু কোনোভাবেই এটা আমরা মেনে নিব না যে, পুশ ইন করবে।’
আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পুশ ইনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দিল্লিতে বৈঠক হওয়ার কথা আছে অফিশিয়ালি। সেটা আলোচিত হবে এবং সেটা একটা সমাধানের দিকে যাবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন , ‘বৈঠকে বিজিবি খুবই শক্ত অবস্থানে থাকবে। বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান ওনারা তুলে ধরবেন এবং এটি একটি সমাধানের দিকে যাবে এবং সীমান্তে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করবে।”
সম্প্রতি পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবির উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আরেক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জানান, পুশ ইনের প্রচেষ্টা ঠেকাতে তিন-চার স্থানে ‘বিজিবি খুব শক্ত ভূমিকার’ কথা শুনেছেন তিনি। এবং তারা সেটা প্রতিহত করেছে।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিজিবি এটা কন্টিনিউ করবে। যতবার এটার চেষ্টা করা হবে, ততবার বিজিবি প্রতিহত করবে এবং আমরা এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করব এবং (প্রতিহত) করব।’
সম্প্রতি পুশ ইন বন্ধে ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে সীমান্তে উত্তেজনার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে আলোচিত হবে।
তিনি আশা করেন, দুই দেশের মধ্যে সীমান্তসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা লঙ্ঘন করে কোনো পক্ষই পদক্ষেপ নেবে না এবং সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
আমার বার্তা/এমই

