
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুদিন আগে প্রায় ৭০ জন সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি বিগত আমলের নির্বাচনগুলোকে ‘ফেক’ বা ‘মকারি’ হিসেবে অভিহিত করে এবারের ভোটকে ঐতিহাসিক ও স্বচ্ছ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন, “স্পিচটা রেস্ট্রিক্টেড ছিল। তারপরেও আমি মেইন যে কয়েকটা পয়েন্ট ছিল সেগুলো বলছি। উনি নির্বাচনের বিষয়ে বলেছেন, নির্বাচনগুলো কিভাবে হতো সেগুলো বলেছেন। যে এগুলো নির্বাচন না এক ধরনের মকারি হতো পুরো। সবগুলোই ফেক ইলেকশন। প্রধান উপদেষ্টা সচিবদের জানান, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠ এবং শান্তিপূর্ণ হবে। নির্বাচনের মাত্র দুইদিন বাকি, অলমোস্ট আমরা লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। নির্বাচন রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে একটা অভূতপূর্ব চেঞ্জ নিয়ে আসবে।”
এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন বলিষ্ঠ ছিল, পলিটিক্যাল প্রসেসে তাদের অন্তর্ভুক্তি দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।” এছাড়া বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষকের আগমনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর বিশ্ববাসীর ফিরে আসা আস্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান উপদেষ্টা সেগুলোকে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ড. ইউনূস বলেন, “শেখ হাসিনার আমলের ওই নির্বাচনগুলোর কোনও জনভিত্তি ছিল না, এমনকি আন্তর্জাতিক মানের কোনও পর্যবেক্ষকও তখন আসেনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণায় বড় কোনও উত্তেজনার খবর নেই। রাজনৈতিক দলগুলো অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছে।”
প্রধান উপদেষ্টা সচিবদের জানান, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য ২৫ হাজার ৭০০ বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। ভোটারদের সুবিধার্থে ‘নির্বাচন’ ও ‘নির্বাচন বন্ধু’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তির এই ব্যবহার নির্বাচনকে অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করবে।
প্রেস সচিব বলেন, “আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে, দেশে আর অপশাসন ফিরবে না বলে দাবি করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে করা ইপিএ চুক্তি আমাদের অর্থনীতির জন্য নতুন দুয়ার খুলে দেবে। ভবিষ্যতে আরও দেশের সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট করা হবে, যা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।”’
প্রেস সচিব জানান, বিগত ১৮ মাসে রাষ্ট্র সংস্কারে সচিবদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই সময়ে প্রায় ১৩০টি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সচিবরা যেভাবে আন্তরিক সহযোগিতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন, সেজন্য তিনি তাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঞ্চালনায় প্রধান উপদেষ্টা সচিবদের সাথে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আমার বার্তা/এমই

