রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো সংস্কার প্রস্তাবগুলো আগামী দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এই আহ্বান জানান।
ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো আগামী দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যেগুলোতে একমত হয়নি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’
প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে ড. তোফায়েল বলেন, ‘প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যগত ভুলগুলো সংশোধন করা না গেলেও সরকার ভোটার তালিকা ও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করতে পারে।’
সিআইপিজি এর চেয়ারম্যান ড. মো. মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক সচিব ড. মো. শরিফুল আলম। অনুষ্ঠানে বক্তারা ভোটাধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব ছিল অরাজনৈতিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। তাই সনদে সকল জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। এই সনদকে আইনি দলিল হিসেবে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারিসুল করিম নির্বাচনী পদ্ধতির সংস্কার সম্পর্কে বলেন, ‘বর্তমান একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্ধতিতে ম্যান্ডেটের সংকট দেখা দেয়। আংশিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিপিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সবার ভোটের গুরুত্ব নিশ্চিত হবে।’
অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জনাব হাসান নাসির বলেন, ‘স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে বর্তমান প্রশাসন ও ভোটার তালিকা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
এ ছাড়া সাবেক সচিব মু. আবদুল কাইয়ূম, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক জনাব মাসুমুর রহমান খলিলী এবং অন্যান্য আলোচকেরা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন।
আমার বার্তা/এমই