প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিষদের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. আখেরুজ্জামান ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. ইমাম উদ্দিন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে অপশক্তির ইন্ধন রয়েছে। তারা অযৌক্তিক দাবির মাধ্যমে প্রকৌশল শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রকে অস্থিতিশীল করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে।
সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনকালে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বাধা, লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তারের শিকার হলেও, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবরোধ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে ভাঙচুর-সহিংসতা চালিয়েছে।
আমাদের ধারণা তারা আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ অনুষ্ঠেয় বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে চাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় পুলিশের সঙ্গে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মারমুখী আচরণ ও পুলিশকে আহত করা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। আমরা এই মতবিনিময় সভা থেকে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করার জন্য সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রম ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে অব্যাহত ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ গত ১৯ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সার্বিক বিষয় আপনাদের মাধ্যমে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের আন্দোলনের সার্বিক বিষয়টি আপনারা অবগত আছেন। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সার্বিক প্রেক্ষাপট আপনাদের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কেবল শাহবাগ কেন্দ্রিক ছিল না; তারা পুরো ঢাকা শহরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়েছে।
এতে আরও জানানো হয়, প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের দাবির যৌক্তিকতা যাচাই ও সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল করিম খানকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সওন্য) কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হককে।
এ কমিটিতে আইডিইবি’র আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন, আইইবি’র সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল ইসলামসহ সরকারের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি অনুযায়ী, ৮ লাখেরও বেশি সদস্য প্রকৌশলী ও সাড়ে চার লাখ ছাত্র-শিক্ষকের পক্ষ থেকে তারা এ সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
২৮ আগস্ট সচিবালয়ে কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগ্রাম পরিষদের ৭ দফা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন আইডিইবি’র আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়।
তবে সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগ, কমিটিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মাত্র ৪ জন এবং ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারদের ৮ জন সদস্য রাখা হয়েছে। এতে পক্ষপাতিত্বের শঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন। তাই ওয়ার্কিং কমিটি পুনর্গঠন করে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে ১ জন, ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে ১ জন এবং অবশিষ্ট ১২ জনকে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ক্যাডার থেকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ‘মেধাবী’ দাবি করলেও আন্দোলনের সময় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে অশ্রাব্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করছেন। এতে মেধার পরিচয় পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করা হয়। বক্তব্যে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এছাড়া, অভিযোগ করা হয় যে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা শুধু অশালীন ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; তারা বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থা ও বিভাগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন। এতে সরকারের প্রকৌশল কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা মব সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে উল্টো নির্যাতিত ডিপ্লোমা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেছেন। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সারাদেশে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা দাবি করেছেন, তাদের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসে কখনো নেতিবাচক বা সহিংস কর্মসূচি ছিল না। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অতীতে তারা নির্ধারিত অফিস সময়ের পর অতিরিক্ত এক ঘণ্টা কাজ করে ইতিবাচক আন্দোলনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারমুখী আন্দোলন ও আইইবি’র অব্যাহত ষড়যন্ত্র পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এর ফলে সদস্য প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীদের কতটা ইতিবাচক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।
বক্তব্যে বলা হয়, সরকারের গঠিত কমিটিকে মীমাংসিত বিষয়গুলো অক্ষুণ্ণ রেখে যৌক্তিক সমাধান দিতে হবে। তবে বর্তমানে নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা জানান, সরকারের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা আশা করেন, সরকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক আন্দোলনকে মূল্যায়ন করবে এবং ৭ দফা দাবির যৌক্তিক সমাধান দেবে। তারা বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সরকারের দর্শনের প্রতি আস্থাশীল বলেও উল্লেখ করেন।
আমার বার্তা/এমই