
গরমে ত্বকের যত্নে আমরা সবাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করি, কিন্তু একই রোদের নিচে থাকা চুলের সুরক্ষার কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।
ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বক নয়, প্রতিদিন চুলেরও মারাত্মক ক্ষতি করছে। রোদের তাপে কালো চুল ধীরে ধীরে তামাটে হয়ে যাওয়া, রুক্ষ ও প্রাণহীন দেখায়,মূলত অতিরিক্ত সূর্যালোকের প্রভাব। তাই এখন চুলের জন্যও দরকার এসপিএফ বা সান প্রোটেকশন।
সূর্যের রশ্মি কীভাবে চুলের ক্ষতি করে
চুল মূলত কেরাটিন নামের একটি শক্ত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এই প্রোটিনই চুলকে শক্তি ও নমনীয়তা দেয়। কিন্তু তীব্র রোদের ইউভি রশ্মি কেরাটিনের বন্ধনকে দুর্বল করে দেয়। ফলে চুল তার স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং সহজেই ভেঙে যায়।
শুধু তাই নয়, সূর্যের তাপ চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক তেল এবং আর্দ্রতা শুষে নেয়। এর ফলে চুল ধীরে ধীরে শুষ্ক, রুক্ষ এবং প্রাণহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে চুলের প্রাকৃতিক মেলানিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে কালো চুল ধীরে ধীরে বিবর্ণ বা তামাটে রং ধারণ করে।
বিশেষ করে যাদের চুলে রং, হাইলাইট বা ডাই করা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও দ্রুত হয়। রোদের প্রভাবে চুলের রং ফিকে হয়ে যায় এবং চুল আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
বর্তমানে চুলের সুরক্ষার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের হেয়ার সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। এগুলো মূলত পাউডার, স্প্রে এবং ক্রিম তিন ধরনের হয়ে থাকে।
পাউডার সানস্ক্রিন সাধারণত মাথার তেলতেলে ভাব কমিয়ে ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করে। স্প্রে সানস্ক্রিন দ্রুত ব্যবহারযোগ্য এবং রুক্ষ চুলে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে। অন্যদিকে ক্রিম বা লোশন টাইপ সানস্ক্রিন মাথার ত্বককে গভীরভাবে সুরক্ষা দেয় এবং ইউভি রশ্মির ক্ষতি কমায়।
রোদ থেকে চুল বাঁচানোর উপায়
রোদে বের হওয়ার আগে চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এসপিএফ যুক্ত লিভ-অন কন্ডিশনার বা হালকা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করা উচিত। এরপর এসপিএফ প্রোটেকশন স্প্রে ব্যবহার করলে চুলের ওপর একটি অদৃশ্য সুরক্ষার স্তর তৈরি হয়, যা সূর্যের ক্ষতি কমায়।
এছাড়া ফিজিক্যাল প্রোটেকশনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। চড়া রোদে ছাতা ব্যবহার করা, হালকা সুতির স্কার্ফ বা টুপি পরা চুলকে সরাসরি ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এই সহজ অভ্যাসগুলো ধুলাবালি ও দূষণ থেকেও চুলকে বাঁচায়।
চুলে যত্নে ঘরোয়া উপাদান
রোদে ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে পুনরায় প্রাণবন্ত করতে সপ্তাহে অন্তত একদিন হাইড্রেটিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। দামি প্রসাধনী না হলেও ঘরোয়া উপাদান যেমন টকদই, মধু, ডিম এবং অলিভ অয়েল চুলের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়া মেহেদি চুলের ওপর একটি প্রাকৃতিক স্তর তৈরি করে, যা ধুলোবালি, দূষণ এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চুলকে রক্ষা করে।
সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার চুলে মেহেদি ব্যবহার করা ভালো। আগে থেকে তেল না দিয়ে পরিষ্কার চুলে ৪ ঘণ্টা মেহেদি রেখে দিলে এটি চুলকে ভালোভাবে কভার করে। এরপর শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং পরদিন শ্যাম্পু করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো চুলকে গভীরভাবে পুষ্টি দেয় এবং রুক্ষতা কমায়। নিয়মিত ব্যবহারে চুল আবার নরম ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
চুল আমাদের সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু আমরা অনেক সময় এর সুরক্ষাকে অবহেলা করি। শুধু ত্বক নয়, চুলের জন্যও প্রয়োজন নিয়মিত সুরক্ষা ও যত্ন। তাই এখন থেকেই রোদে বের হওয়ার আগে ত্বকের পাশাপাশি চুলের এসপিএফ নিয়েও সচেতন হওয়া জরুরি।
সূত্র: ভোগ, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হেলথশটস
আমার বার্তা/জেএইচ

