ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পালানোর পর তৎকালীন ডিজি জালাল উদ্দিনকে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কায়দায় মব সৃষ্টি করে কিছু বহিরাগতদের সহযোগিতায় হুমকির মুখে ডিজি দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় চাকরিচ্যুত হতে বাধ্য করেন, তারি ধারাবাহিকতায় ১৩/১১/২০২৪ প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মৃত্তিকা (SRDI) মহাপরিচালক পদে ড. সামিয়া সুলতানা দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক কৃষি সচিব পলাতক "ওয়াহিদা আক্তারের" ঘনিষ্ঠ বান্ধবী।
এই সুবাদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে মৃত্তিকাতে একক আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। পদ গুলো হচ্ছে-
১) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।
২) প্রকল্প পরিচালক "CCBS"
৩) পরিচালক- ফিল্ড সার্ভিসেস উইং
৪) মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট BCS সমিতির সেক্রেটারি।
৫) development of national soil map and National soil information system of Bangladesh project founded by AFACI. এই প্রকল্পের co-project investigator.
৬) সয়েল সাইন্স সোসাইটি অফ বাংলাদেশের নির্বাচন না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সিলেকশনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদবী গ্রহণ।
আইন অনুযায়ী মৃত্তিকার কোন কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদানের একমাত্র এখতিয়ার রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়। কিন্তু ড. সামিয়া সুলতানা দায়িত্ব গ্রহণের পর তার আস্থাভাজন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেন কে তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল পাবনার আয়ন-ব্যায়ন (DDO) ক্ষমতায় বহাল করেন। উক্ত ক্ষমতা পাওয়ার পর ফারুক হোসেন প্রতিষ্ঠানের সৎ নিষ্ঠাবান ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ক্ষোভের বশবতী হয়ে বিভিন্ন কার্যালয়ে হয়রানি মূলক বদলি শুরু করেন, যার প্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয় হতে বর্তমান ডিজি সামিয়া সুলতানা বরাবর ২৬-১১-২০২৪ উপসচিব দেবীচন্দ্র স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে নির্বাচন ছাড়াই BARC-এর চেয়ারম্যান ডঃ শেখ মো: বখতিয়ার গংদের মাধ্যমে ক্ষমতা খাটিয়ে SSSB তে জেনারেল সেক্রেটারি পদ দখল করে নেন ডিজি ড. সামিয়া সুলতানা।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ডিজি ১লা জানুয়ারি ২০২০ থেকে SRDI এর ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (CCBS) প্রকল্পের এখন পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। অথচ মহাপরিচালকের পদে থেকে P.D. পদে বহাল থাকা অনৈতিক।
CCBS প্রকল্পের কাজ জানুয়ারি ২০২০ থেকে শুরু করে জুন ২০২৪ এ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ তা ২০২৫ এর আগস্ট মাসেও শেষ হয়নি।
প্রশ্ন উঠেছে PSO মো. ফারুক হোসেন এর বিরুদ্ধেও, ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন না করে তিনি অফিসিয়াল মিটিং এবং আলোচনা সভায় নিজেকে ডক্টর বলে দাবি করেন, অফিসিয়াল মিটিং প্রোগ্রাম এর ব্যানারে ডক্টর লেখাটাও সাদৃশ্য।
২০২৩-২০২৪ সালের ফাইনাল বার্ষিক প্রতিবেদনে স্বহস্তে ডঃ মোঃ ফারুক হোসেন PSO লিখেন।
এই PSO ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে তার নিজ এলাকা নওগাঁতে জোরপূর্বক ৮ বিঘা সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
জনমনে প্রশ্ন উঠে জনাব ফারুক হোসেন একজন পিএসও হয়ে কি ভাবে রাজশাহী শহরে কৃষিবিদ টাওয়ার নির্মাণ করেন।
ড. সামিয়া সুলতানা ও ফারুক হোসেন এর অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে মৃত্তিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ২৭ আগস্ট ২০২৫ দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগায়।
আমার বার্তা/এমই