
জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমি চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছি। চা শ্রমিকদের ভুলে গেলে আমি নিজেকেই ভুলে যাব। আমি তাদের জন্য স্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করবো। আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাণীর মেয়ে রাণী হবে। আমরা চাই যদি একজন শ্রমিক ভাই বা বোনের মেধাবী সন্তান হয় রাষ্ট্র তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নিবে এবং সে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আয়োজনে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ’সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণমানের আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট না হবার কারণে শুধু লন্ডন থেকে বিমানের উঠানামা হয়। আর মাঝে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে দুয়েকটা বিমান সিলেট হয়ে ঢাকা যায়। কিন্তু আমাদের বিপুলসংখ্যক মানুষ ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন। বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট আছে। দুটি এয়ারপোর্টে এয়ারলাইনস নামে। কিন্তু সিলেটে আসে না। সিলেটিরা মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেছেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেট পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট হবে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ফ্লাইট সিলেট আবার আসবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পাহাড়ি, সমতল, নিম্নাঞ্চল ও সব জাতিবর্ণ ও শ্রেণির মানুষদের নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। একটি শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে, আরেকটি শ্রেণি থাকবে ভুখা এটা আমরা হতে দেব না। ১২ তারিখের ভোট হবে বাংলাদেশ পরিবর্তনের ভোট। এটা ২৪ এর যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। এ ভোটের সঙ্গে গণভোট ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ আমরা পাবো।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ দেশ এগিয়ে যাবে যুবকদের হাত ধরে। দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। মুখের কথা নয়, ঠোঁটের কথা নয় এটা আমাদের বুকের কথা। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে এ জাতি তাদের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনেক লোকজন দেশের বাইরে যান। সেখানে অনেক প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হলে তাদের নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বে এ লাশগুলো সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে। আবার কোনো শ্রমিক প্রবাসে গিয়ে কাজ করতে মারা যায় তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া হবে। সে বেওয়ারিশ পড়ে থাকবে না। তার পরিবারের দায়িত্ব নিবে সরকার। দেশে চুরি এবং চাঁদাবাজি বন্ধ হলে এ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা যাবে।
জামায়াত আমির বলেন, ‘গণভোট বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধাদের, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। সেই ভোট হচ্ছে গণভোট। সেই ভোটে ‘হ্যাঁ’ হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, না মানে গোলামি।’
কুলাউড়া আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সায়েদ আলীকে নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘কুলাউড়া আসনে প্রার্থী দুজন। একজন সায়েদ আলী। আর ছায়াপ্রার্থী হিসেবে আছি আমি।’
কুলাউড়া নবীন চন্দ্র স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলীর পরিচালনায় ও জেলা জামায়াতের আমির আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য শরিফ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই

