ই-পেপার বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

গত শতাব্দীর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

মো. কামরুল ইসলাম:
৩০ জুলাই ২০২৫, ১৮:৪০

সঠিক নেতৃত্ব তৈরীর কারিগর ছিলো দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ। ডাকসু, চাকসু, রাকসু, জাকসু, শাকসু, বাকসু নির্বাচন গুলোর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে আপনাদের। এমনকি ঢাকা কলেজ, রাজশাহী কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ, বরিশাল বিএম কলেজ, কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ, চট্টগ্রামের মহসিন কলেজ, সিলেটের এমসি কলেজ, রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, খুলনার বিএল কলেজ, যশোরের এমএম কলেজসহ সারা দেশের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য, ছাত্র নেতৃত্ব তৈরী করার জন্য সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উঠে আসা অনেক ছাত্র নেতা পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতির হাল ধরেছে।

গত শতাব্দীর শেষ সময়গুলোর পদধ্বনি আবারো শুনতে পাচ্ছি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর, যা জুলাই আন্দোলনের ফলে প্রাপ্ত পরিবর্তনের ফল। ইতিমধ্যে ডাকসু, রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন একটা রিহার্সল বলতে পারেন। গত শতাব্দীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ফেডারেশন সহ বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতো। যা প্যানেল আকারে একক সংগঠন থেকে কিংবা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নির্বাচনকালীন ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে প্যানেল দিয়ে নির্বাচন করতো, যা প্রতিটি ক্যাম্পাসে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করতো। একটা ঈদ ঈদ ভাব থাকতো। প্রতি বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো।

একসময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্বারাও সরকার পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যেত। আশি-নব্বই দশকের ধারাবহিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনেরর শেষ অংক ছিলো সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন, যা শাকসু নামেই পরিচিত ছিলো। ১৯৯৭ সালে শাকসু’র শেষ নির্বাচন হয়। দীর্ঘ সময় পর এসিড টেস্ট হিসেবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ২০১৯ সালে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নির্বাচনে পরাজয়ের পর পরবর্তীতে আর ডাকসু সহ অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের পথে পা বাড়ায়নি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

সারা দেশের নির্বাচন কেন্দ্রিক অবকাঠামো জাতীয় নির্বাচন সহ সব নির্বাচন যেভাবে বছরের পর বছর ধ্বংসযজ্ঞে পরিনত করা হয়েছে ঠিক একইভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কেন্দ্রিয় ও হল সংসদ নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে সব কিছুতেই একটা পরিবর্তনের আবাস মিলছে, যা আগামীর বাংলাদেশ গঠনে সহায়তা করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র নেতৃত্ব তৈরীর কারিগর হিসেবে খ্যাত কেন্দ্রিয় ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সারা বছর পাঠ্যক্রম বহির্ভূত নানা বিষয়ে সাধারন ছাত্রছাত্রীদের ব্যস্ত সময় পার করতে সহায়তা করতো।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন না থাকায় ছাত্রদের মাঝে মাদকাসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, অনৈতিক কাজের বিশেষ করে চাদাবাজ, টেন্ডারবাজদের আবির্ভাব ঘটে। জুলাই আন্দোলনের পরপূর্ণ ফসল আমরা ঘরে তুলতে পারি নাই শুধু মাত্র রাজনৈতিক সহনশীলতা না থাকায়। জুলাই আন্দোলনের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তরুন নেতৃত্বের আবির্ভাব দেখতে পেয়েছি। জুলাই স্পিরিটকে ধারন করে গত এক বছরে ডজন খানেক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটেছে। দেশের ভবিষ্যত রাজনীতির হালচাল তাদের উপরও নির্ভর করবে।

জুলাই আন্দোলনকে স্বীকৃতি দিতে যেয়ে যেন কোনো ভাবেই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন কিংবা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ভাষা আন্দোলন আমাদের মায়ের ভাষাকে রক্ষা করেছে, আর একাত্তর পাকিস্তানী হানাদের কাছ থেকে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের কৃতি সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছে। বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে দিয়েছে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে বিশ্বের বুকে ছাত্র জনতার বৈপ্লবিক আন্দালনে যে একটি স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটানো সম্ভব তা সারা বিশ্বের রাষ্ট্র নায়কদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। দৃঢ়চেতা মনোবল বন্দুকের নলের মুখে দাড়িয়ে আবু সাঈদ, মুগ্ধদের মতো হাজারো ছাত্র-জনতার আত্নত্যাগ ভবিষ্যত বাংলাদেশে স্বৈরাচার তৈরীর পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। স্যালুট জুলাই আন্দোলনের সৈনিকদের। ক্ষমতালিপ্সুদের জন্য এক কঠিনতম রেড সিগন্যাল। বাংলাদেশীরা যে বীরের জাতি, সাহসী জাতি তা বারবার প্রমান করেছে। মাঝে ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও ডাঃ মিলনের মতো অনেক ছাত্র জনতা প্রাণ দিয়ে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

দেশের সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এর সংস্কৃতি গড়ে উঠুক, সঠিক নেতৃত্বের উন্মেষ ঘটুক, বিশ্বের দরবারে একটি যোগ্য জাতি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করুক এবং আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যত বাংলাদেশের রূপকার হউক এ প্রত্যাশা করি।

লেখক : সাবেক জিএস, শাকসু।

আমার বার্তা/মো. কামরুল ইসলাম/এমই

"পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি" চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে আপোষহীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক `আপোষহীন' নেতৃত্বের নাম।রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত তিনি

শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্য: ১-১২তম ব্যাচের নিবন্ধিতদের ন্যায়বিচার দাবি

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন এক অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)

শিক্ষা-শিল্প ফাঁক কমাতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা গত এক দশকে বিস্তারের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

হাদির ওপর হামলা, শান্তির পথে কাঁটা ছড়াচ্ছে কারা?

বহু প্রতীক্ষা ছিল। নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছিল দেশ। নির্বাচন কমিশন ‘তফসিল’ ঘোষণা করল। নির্বাচনের ট্রেন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান আর নেই

খালেদা জিয়ার জানাজায় তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার জানাজা, গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ

জানাজায় বিপুল জনসমাগম মৃতের জন্য যে সৌভাগ্য বয়ে আনে

রাষ্ট্রীয় শোকে রাজধানীতে আতশবাজি-সব ধরনের উৎসব নিষিদ্ধ: ডিএমপি

মাকে কবরে রেখে বিষণ্ন মনে বাসায় ফিরলেন তারেক রহমান

নতুন বছরে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বেগবান হবে: আশা প্রধান উপদেষ্টার

ভারতে চলন্ত ভ্যানে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২ ঘণ্টা পর রাস্তায় নিক্ষেপ

পোস্টাল ভোট দিতে ১১ লাখ নিবন্ধন, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়াল ইসি

খালেদা জিয়া স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে ছিলেন: আনিসুল ইসলাম

মধুপুরে যানজট নিরসনে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

"পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি" চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে আপোষহীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে: চীনা মুখপাত্র

ডাকাতির গরু বাঁচাতে ক্যাভার্ড ভ্যানে অক্সিজেন রাখতেন ডাকাত

কথা রাখলেন খালেদা জিয়া, দেশের মাটিতে স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ছবি-ভিডিও বানাবেন যেভাবে

জানাজায় অংশ নিতে আসা বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে উপদেষ্টাদের সাক্ষাৎ

সিলেট স্টেডিয়ামে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ৫০ প্লাটুন আনসার ও টিডিপি মোতায়েন

খালেদা জিয়ার জানাজায় পদদলিত হয়ে একজনের মৃত্যু