ই-পেপার শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত হত্যা ও আন্তর্জাতিক আইন

সাদিয়া সুলতানা রিমি
১৮ মার্চ ২০২৫, ১১:২৭

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হওয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েছে। অনেক প্রতিবেদন ও গবেষণায় অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশী নিরীহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ও নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তের অবস্থা একাধিক ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কারণে জটিল। ১৯৪৭ সালের বঙ্গভঙ্গের পর উভয় পক্ষেই বেশ কিছু সীমান্ত সমস্যা ও বিতর্ক নিয়ে কাজ শুরু করে, যার ফলস্বরূপ কিছু অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, গরু পাচার এবং চোরাচালানের ঘটনা ঘনঘন ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর শ্যূট-অন-সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতির ব্যবহার এবং নির্দোষ নাগরিকদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বারংবার ঘটেছে। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে উল্লেখ আছে যে, ১৯৯৬ থেকে ২০২০ এর মধ্যে হাজার হাজার বাংলাদেশী নাগরিক নিরীহ অবস্থায় সীমান্ত পারাপারের সময় হত্যা বা গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ঘটনায় যেমন কিশোরী ফেলানির নির্মম হত্যা (কুড়িগ্রাম) ও স্বর্ণা দাস হত্যার মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক নজরে এসেছে। এই ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে—নিরস্ত্র ও অসহায় নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুলি চালানো হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইন-বিধানের পরিপন্থী।

এছাড়া, প্রতিবেশী উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থাকা সত্ত্বেও এইসব হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালার আওতায়, কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীকে নিরীহ নাগরিকদের উপর নিষ্ঠুর বা অযৌক্তিক বল প্রয়োগ করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘের মৌলিক নীতিমালায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে এবং শেষ উপায় হিসেবে বল প্রয়োগ করা উচিত। এসব হত্যাকাণ্ডকে অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক আইনের আওতায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার নীতিমালা ও জেনেভা কনভেনশন, নিরস্ত্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে অবৈধ গুলি চালানো বা নিষ্ঠুর নির্যাতনের অনুমতি দেয় না।জেনেভা কনভেনশন ও অতিরিক্ত প্রোটোকল অনুযায়ী, যুদ্ধ বা সংঘর্ষের সময়ও নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর প্রতি সহিংসতা নিষিদ্ধ।জাতিসংঘের আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা স্পষ্টভাবে বলেছে যে, আইন প্রয়োগকারী বাহিনী শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য সীমিত ও প্রয়োজনীয় বল প্রয়োগ করতে পারে, অতিরিক্ত ও নির্বিচারে গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে বিবেচিত।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নিয়মিতভাবে সীমান্তে থাকা নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এইসব

হত্যাকাণ্ডের ফলে:

অসংখ্য পরিবার শোকান্ত হয়েছে।স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক দলের নেতৃবৃন্দ ভারতের এই নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের দাবী জানাচ্ছেন। বিশেষ করে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ও অন্যান্য বিশ্লেষকরা দাবি করছেন—ভারত সীমান্তে চলমান সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ করা উচিত।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও বাস্তবায়নের ঘাটতি:

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্তের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রটোকল স্বাক্ষরিত থাকলেও, এসব চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা ও একতরফা ব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে এসেছে। অনেক সময় এ ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, আত্মরক্ষার দাবি হিসেবে নিরীহ নাগরিকদের প্রতি অত্যধিক বল প্রয়োগ করা হচ্ছে।বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার ভারতীয় সীমান্ত রক্ষার কড়া নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।বাংলাদেশে বিভিন্ন এনজিও ও মানবাধিকার সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।ভারতীয় পক্ষ কর্তৃক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা ও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, মাঠের বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরীহ নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখার দাবি উঠেছে। উক্ত ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবহৃত বলের মাত্রা কি আইনসম্মত? ও কি এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলোর সমাধানের জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ব্যাপক তদন্ত ও হস্তক্ষেপের আহ্বান করা হচ্ছে।

এই বিষয়টি একটি জটিল দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা, যেখানে রাজনৈতিক, আইনী ও মানবিক দিকগুলো একসাথে বিবেচনার দাবি রাখে

লেখক : শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আমার বার্তা/জেএইচ

অর্থ পাচারসহ আর্থিক অপরাধ দমনে সিঙ্গাপুর কার্যকর ও সফলঃ এফএটিএফ

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বিষয়ক বৈশ্বিক নজরদারি সংস্থা "ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক

আধুনিক কৃষি ও স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়েই টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের কৃষি আজ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি কমে যাওয়া

বাংলাদেশে রেলক্রসিং, লঞ্চ ও ফেরি দুর্ঘটনা: এক চলমান জাতীয় ট্র্যাজেডি, কিছু সুপারিশ

বাংলাদেশ গত দুই দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন

ভ্যাট সংস্কার এখন সময়ের দাবি: ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট কতটা প্রস্তুত

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি রূপান্তরমুখী সময়ে অবস্থান করছে। এলডিসি উত্তরণের প্রক্রিয়ায় আমরা যেমন দ্রুত এগিয়ে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বড় সুখবর

কোচিংয়ে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশু শিক্ষার্থী, আসামি গ্রেপ্তার

৫ ম্যাচে চতুর্থ সেঞ্চুরি করলেন শান্ত, ছুটছে বাংলাদেশও

সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণে ইসলামের নীতিমালা

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

ইন্দোনেশিয়া আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, নিহত ৩

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলা সাহিত্যের গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: হাসান মাহমুদ টুকু

শিক্ষকরা ‘সহযোগী বইয়ের’ তালিকা দেবেন, গাইড বইয়ের দরকার হবে না

ঈদ উপলক্ষ্যে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না: মির্জা ফখরুল

মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ-অন্তঃসত্ত্বা: চিকিৎসকে হত্যা-ধর্ষণের হুমকিতে থানায় ডায়েরি

জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে তরুণদের সমাবেশ

দেড় বছরে গণমাধ্যমের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা বিশ্বে বিরল: ইফতেখারুজ্জামান

ডাকাতি প্রতিরোধে টহলে গিয়ে প্রাণ হারালেন নৌ পুলিশ সদস্য

দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ব্যাপারে কড়া সতর্কবার্তা

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস আজ

ডায়াবেটিস হওয়া মানেই তুমি হার্টের রোগী

সবজির বাজার চড়া, বেশিরভাগের দাম ৮০ থেকে ১০০

পরিচয় মিলেছে সীমান্তে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত মরদেহের