ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ধর্ষণের আইন ও শাস্তি কি কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ

প্রজ্ঞা দাস:
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৫৮

বাংলাদেশে বর্তমানে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা, একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি ৯ ঘণ্টায় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। দেশে ধর্ষণের শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর আইন থাকলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু দোষীদের শাস্তি হচ্ছে না বা হলেও তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এই আইনের ৯(১) ধারা অনুযায়ী, ধর্ষণের শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে ২০২০ সালে সংশোধনীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান এনেও কমছে না সহিংসতা। বরং একের পর এক নারী-শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট ১,৪১৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৬ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, এবং ১০ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ধর্ষণের অভিযোগে ১,৫২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।এর মধ্যে ৭৫ জন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, এবং ৮ জন আত্মহত্যা করেছেন।এছাড়া,২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আরও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেই ১১২টি ধর্ষণের ঘটনার রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন গুলো নারী এবং শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের অতীব ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। ধর্ষণের ভয়াল থাবা থেকে শিশু, বৃদ্ধ, যুবতি, কেউই রক্ষা পাচ্ছে না। নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণ বৃদ্ধি পাবার মূল কারণ সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা এবং নৈতিকতার অবক্ষয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা, বিচারকার্যে বিলম্ব, ক্ষমতাশীলদের দৌরাত্ম, প্রমাণের অভাব, মাদকের অধিকতর ব্যবহার এবং সহজলভ্যতা। একটি জরিপে দেখা গেছে,দেশের ৯৫টি ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রায় পৌনে দুই লাখ মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে অন্তত ৪০ হাজার মামলা ৫ বছরেরও বেশি পুরাতন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রত্যেকটি ট্রাইব্যুনালে গড়ে প্রায় এক হাজার ৭৫০টি মামলার জট রয়েছে।এতে একদিকে যেমন ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও ধর্ষণের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ধর্ষণের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা প্রায়ই সম্ভব হয় না। ফলে বিচারপ্রার্থীরা হতাশ হয়ে পরেন।একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার মাত্র ৩-৪%। অর্থাৎ ৯৬-৯৭% অপরাধী শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এটাও ধর্ষণ বাড়ার পিছনের কারণ। প্রভাবশালীদের অন্যায় হস্তক্ষেপ ধর্ষণকারীকে আরো উৎসাহিত করে।রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ধর্ষকদের আইনের শাস্তি থেকে বাঁচাতে তাদের ক্ষমতা অন্যায় ভাবে ব্যবহার করে।আমাদের দেশের আইনে সাক্ষীর সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধান নেই। অনেক ভুক্তভোগী নিরাপত্তার অভাবের ভয়ে মামলা করতে সাহস পান না। তাদের পরিবারও হুমকির মুখে পরে। পাশাপাশি ধর্ষণের মামলায় যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। ফলে আদালতে প্রমাণের অভাবে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়।বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ প্রমাণে অনেক রকম কাঠামোগত দুর্বলতা আছে।গবেষণায় প্রমাণিত যে, বাংলাদেশের সিংহভাগ ধর্ষণ হয়ে থাকে পরিচিত মানুষের দ্বারা।অর্থাৎ সার্ভাইভর সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক চাপের মুখে মামলা করেন না। ফলে অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়।এতে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ (বীর্য প্রভৃতি) জোগাড় করা যায় না।অনেক সার্ভাইভর, বিশেষ করে যারা ধর্ষণের মামলার কার্যবিধি সম্পর্কে জানেন না, তাঁরা ধর্ষণের পরপরই গোসল করে ফেলেন, যার ফলে প্রমাণ হারিয়ে যায়।এরপর আসে তদন্তের কথা। ভয়েস অফ আমেরিকার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে যারা কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই বিশ্বাস করেন, ধর্ষণের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীই কোন না কোনভাবে দায়ি। এমন মানসিকতা নিয়ে তদন্ত করা হলে নারীর পক্ষে যায় এমন অনেক প্রমাণ চোখ এড়িয়ে যাবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ধর্ষণের ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।"ধর্ষণের মতো এমন একটি জঘন্য অপরাধকে দমন করতে রাষ্ট্রসহ সকলের কিছু কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল স্থাপন ও বিচারকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। মামলা করার পর ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করাতে হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করতে হবে। মিডিয়া ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে হবে।সড়ক, গণপরিবহন ও কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আলোকায়ন বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করতে হবে। শুধু শাস্তি প্রদানের মাধ্যমেই নয়,এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধিকে প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সামাজিক-আইনি গবেষণার ভিত্তিতে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংশোধন আনা। সেই লক্ষ্যে মনস্তাত্ত্বিক সংশোধনাগারের ব্যবস্থা করতে হবে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার আন্তরিকতা ও কার্যকরী ব্যবস্থা ছাড়া ধর্ষণ কে সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়।ন্যায়বিচারের অভাব সমাজে ধর্ষকদের আরও বেপরোয়া করে তুলে।আইনের যথাপযুক্ত প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা জরুরি।এক্ষেত্রে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সরকার নই সমাজের প্রত্যেকটি সেক্টরের কর্মরত,কর্মচারী , সাধারণ জনগণ এবং তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ধর্ষণ নামক ভয়াবহ সমস্যাকে চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব।

লেখক : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।

আমার বার্তা/জেএইচ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আরাকান আর্মির ভুমিকা

বর্তমানে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমন্ত অঞ্চল সহ রাখাইনের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির (এ এ)

কৃষক কার্ড কৃষিতে আনছে নতুন দিনের বার্তা

দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। কৃষির সাথে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জড়িত।

অটোরিকশা সংকটের মানবিক সমাধান

রাস্তায় অটোরিকশা এখন আর শুধু একটি যানবাহন নয়; এটি লাখো মানুষের জীবিকার শেষ আশ্রয়। অথচ

রোহিঙ্গা সংকট- ইরান যুদ্ধ ও মানবিক সহায়তায় প্রভাব

ইরান ও আমেরিকা- ইসরায়েল যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে একটি বিশাল ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাশিয়ার তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ

প্রচণ্ড গরমে ব্যায়াম বা হাঁটার সময়ে সতর্কতা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে পুনরায় জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করলেন বিল্লাল বিন কাশেম

বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৫ ইউনিট

‘টাইম’র ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান

‘সুপারনিউমারারি পদোন্নতি’ পাওয়া ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নীতি সহায়তা চান পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকরা

মালদ্বীপের ‘পোল-অ্যান্ড-লাইন’ টুনা মাছ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত

অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নের বিকল্প নেই: অর্থ উপদেষ্টা

সেন্টমার্টিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ইউনূস-রিজওয়ানারা মানবসভ্যতার শত্রু

লেভেল থ্রি-কোর্সে প্রথম রাজ্জাক, দ্বিতীয় হান্নান যৌথ তৃতীয় নাফীস-ডলার

কর্ণফুলি টানেলকে কর্যকর করতে পণ্যবাহী যাতায়াত বাড়ানো প্রয়োজন

সদরঘাটে ৪০ লাখ টাকার জাল নোটসহ যুবককে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ

আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের পাশে থাকতে চায় যুক্তরাজ্য

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

যাত্রাবাড়ী ও উত্তরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬২ জন

কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু

একমাসে হাম ও হাম সন্দেহে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস ইইউয়ের

শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে কাছাইট মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা