চিত্রনায়িকা রত্না ২০০২ সালে ‘কেন ভালো বাসলাম’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নাম লেখান। এই সিনেমায় তার নায়ক ছিলেন ফেরদৌস, রত্না তখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় অভিনয় করেন কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ইতিহাস’ সিনেমায়। মূলত এই সিনেমায় চিত্রনায়ক মারুফের বিপরীতে অভিনয় করে পান ব্যাপক জনপ্রিয়তা। চিত্রনায়িকা রত্না বাংলা চলচ্চিত্রে প্রায় দুই দশক ধরে একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন, অভিনয় করেছেন প্রায় অর্ধশত চলচ্চিত্রে। কিন্তু আস্তে আস্তে ঢালিউড থেকে সরে যান তিনি। কিন্তু কেন এতো সম্ভাবনা থাকার পরেও তিনি অনুপস্থিত, এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন দৈনিক আমার বার্তার সাথে। তার সাথে কথা বলেছেন বিনোদন রিপোর্টার জহিরুল ইসলাম...
প্রশ্ন : সিনেমায় আপনাকে এখন দেখা যায় না কেনো?
উত্তর : আমাকে দেখা যায় না সেটা না, সিনেমাই তো নাই, দেখবেন কীভাবে? সিনেমা থাকলে অবশ্যই দেখতেন।
প্রশ্ন : বর্তমানে কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
উত্তর : ব্যস্ততা তো আছেই। আগেই যেটা বললাম সিনেমা হচ্ছে না বললেই চলে। তারপরও যেটুকু হচ্ছে তার মধ্যে আমারও ‘কিশোর গ্যাংস্টার’ নামের একটা সিনেমার কাজ চলছে। এই সিনেমার পরিচালক হচ্ছে মোসাদ্দেক ফালগুন আর আমার নায়ক হিসেবে আছেন নবাগত রাজ।
তাছাড়া, পরিচালক রকিবুল আলম রাকিব এর ‘নষ্ট মুন্না’ নায়ক রুবেল ভাই, পরিচালক সত্যরঞ্জন রোমাঞ্জ এর ‘পরানপাখি’ নায়ক অভি এবং পরিচালক জুয়েল ফারসি’র রিমেক ‘অরুন বরুন কিরনমালা’ নায়ক আনামের সাথে তিনটা সিনেমার কাজ শেষ করেছি।
প্রশ্ন : অবসর সময়ে কি করেন?
উত্তর : কোর্টে প্র্যাকটিস করি। বাসায় পড়াশুনা করি। আমার দু’টো বেবি আছে, তাদের সাথে সময় কাটাই। স্বামী, সংসার বাচ্চাদের সাথে সময় কেটে যায়।
প্রশ্ন : নায়িকাদের সংসার জীবন কেমন?
উত্তর : খুবই ঝামেলার ভাই, শুধু নায়িকাদের না, আমার মনে হয় সবার সংসার জীবনই কঠিন। একটা সময় মনে হতো অভিনয় করাটা অনেক কঠিন কাজ, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সংসার জীবন অনেক কঠিন। তাই যারা বিয়ে করে নাই তারা যেনো না করে, কি দরকার ঝামেলায় জড়ানোর, তার চেয়ে বরং জীবনটাকে উপভোগ করুন।
প্রশ্ন : আপনার দুই দশকের ক্যারিয়ার নিয়ে কিছ বলুন?
উত্তর : সেই সময় ‘ইতিহাস’ সিনেমাটা সুপার ডুপার হিট হয়। তখন আমি ক্লাস টেন এ পড়ি। তখন আমার প্রচুর সিনেমার অফার আসে, আর তখন আমার পড়াশোনার জন্যও ব্যস্ততা বেড়ে যায়। মূলত পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণেই অভিনয়ে আমার একটা গ্যাপ তৈরি হয়।
ব্যস্ততার মধ্যেই আমি অভিনয় করি ‘ধোঁকা’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘নষ্ট’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘সন্তান আমার অহংকার’, ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’, ‘সন্তানের মতো সন্তান’সহ বেশকিছু দর্শকপ্রিয় সিনেমায়।
প্রশ্ন : তাহলে কি আপনার ক্যারিয়ারে অতৃপ্তি আছে?
উত্তর : দেখুন আমি প্রথম সিনেমা করি ফেরদৌস ভাইয়ের সাথে, তারপর বাপ্পারাজ ভাই, মারুফ, সাকিব খান, শাহেদ ভাই, রিয়াজ ভাইয়ের মতো অভিনেতাদের সাথে কাজ করেছি। তাই অতৃপ্তি বলতে কিছু নেই আমার।
আর ডিরেক্টদের বেলায় শাহীন-সুমনের সাথে কাজ করে আমি পরিপূর্ণ তৃপ্ত। তবে আরও কাজ করতে চাই কাজী হায়াত এর সিনেমায়। সুযোগ পেলে কাজ করবো দেলোয়ার জাহান ঝন্টু স্যারের সাথে।
আসলে আমার ক্যারিয়ার এতো ছোট হওয়ার কথা ছিল না। যেহেতু শাবনুর, মৌসুমি, পপি একটা লেভেল বা ব্র্যান্ড। আমার দর্শকরা ভেবেছিল আমি হয়ত সেই লেভেলটা ক্রস করবো। কিন্তু আমার ক্যরিয়ারের ব্যস্ত সময়ে আমার স্টাডি নিয়েও ব্যস্ত থাকতে হয়েছে, কারণ আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি ছিল আমার স্টাডি।
প্রশ্ন : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
উত্তর : অভিনয় করে যাওয়া। ডিরেকশন অনেক কঠিন জিনিস। তাই ডিরেকশন দেওয়ার ইচ্ছে নেই আমার। তাছাড়া অভিনয়ের পাশাপাশি ‘তামান্না ফিল্মস’ নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান করেছি। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে শাহীন-সুমনের পরিচালনায় দেশের প্রথম ডিজিটাল হরর সিনেমা ‘সেদিন বৃষ্টি ছিল’ নির্মাণ করি। এই সিনেমায় আমি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করি, আর নায়ক হিসেবে অভি এবং সুমিত অভিনয় করে। এই সিনেমাটি সুপার ডুপার হিট হয়। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে আমি আরও সিনেমা নির্মাণ করব।
প্রশ্ন :সিনেমার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু বলুন?
উত্তর : এখন বিশ্বায়নের যুগ, মোবাইলে ক্লিক করলেই সবকিছু পাওয়া যায়, তাই দর্শকও মনে করে সিনেমাও মোবাইলে দেখবে। আসলে মোবাইলে সিনেমা দেখা আর হলে সিনেমা দেখা এক জিনিস না। সিনেমা শুধু বড় পর্দাতে দেখেই আনন্দ পাওয়া যায়। তাই মোবাইল থেকে ফিরে দর্শকদের উচিৎ বড় পর্দায় সিনেমা দেখা। এভাবে সিনেমাকে সাপোর্ট দিলে আমাদের সিনেমা আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
এবি/ জিয়া