
রাজউকে চাকরি করলেই শত কোটি টাকার মালিক হওয়া যায় । সেই পুরানো প্রচলন থেকে রাজউক এখনো বের হয় আসতে পারেনি৷ হোক সেটা যত নিন্ম পদের চাকরীই। রাজউকে চাকরি করলেই মালিক বনে যায় একাধিক বহুতল ভবন, প্লট, ফ্ল্যাট, মার্কেট, দোকান পাট, আধুনিক গাড়িসহ অনেক কিছুর।প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি করে অফিস পিয়ন, দারোয়ান, উচ্চমান সহকারী, নিম্নমান সহকারী,বেঞ্চ সহকারীসহ নিন্মপদস্থ সকলেই কোটি টাকার সম্পদের মালিক। এদের বেতন সর্বসাকুল্যে আর কত হতে পারে, বড় জোর ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার। তবে এক জায়গাতে এদের সকলের নিখুঁত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মিলেমিশে এরা সবাই কোটিপতি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজউকের দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে স্বপ্রনোনিত হয়ে সুয়োমুটো রুলও জারি করেছিল মহামান্য হাইকোর্ট.। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোন- ৬ এর ইমারত পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামানের নাম। এক সময় ছিলেন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় জহির রায়হান হল শাখায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার সুবাদে বাউফলের সাবেক সাংসদ ও চীফ হুইপ ও আ.স.ম ফিরোজের সুপারিশে রাজউকে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে চাকরি বাগিয়ে নেয়। যোগদান করে ২ জুলাই ২০১৮ সালে, কর্মস্থক রাজউক প্রধান কার্যালয়। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর বিএনপি ঘরনার রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আর্বিভাব ঘটেছে।
দুদকের এক অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মনিরুজ্জামান মাত্র কয়েক বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। ঢাকায় কিনেছে একাধিক ফ্লাট, গাজীপুরে রয়েছে একাধিক প্লট, বরিশাল সদরে ও নিজ এলাকা বাউফলের ছিটকায় জমি কিনে করেছে ভবন নির্মাণ। রয়েছে মটরসাইকেল, ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত গাড়ি। ব্যাংকে গচ্ছিত আছে কোটি টাকার এফডিআর। এসব সম্পদের কোনো বৈধ উৎস নেই বলে দুদকের অভিযোগ তোলে ধরা হয়েছে।
মনিরুজ্জামান এবং তার স্ত্রী কানিজ জাহানকে ২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তলব করেছিল। সেখানে বলা হয়েছে আদেশ প্রাপ্তির ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের এবং তাদের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও উহা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করতে । এরপর কোন এক অদৃশ্য কারনে দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে বাংলামটরে সারিনা আশরাফ নিবাশের ৯/সি ফ্লাটের মালিক মনিরুজ্জামান, বর্তমানে তিনি এই ফ্লাটেই বসবাস করছেন। মহাখালীর ফ্যালকন গার্ডেনে তার ফ্লাট রয়েছে। ফ্যালকন গার্ডেনের সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সবুর আমার বার্তাকে জানান “এই ফ্লাটটি মনিরুজ্জামান স্যারের”। যার বর্তমান বাজার মুলা এক কোটি দশ লাখ টাকা । উত্তরার উলুদাহা, বাউনিয়া মৌজায় পলিয়েন্থাস ভবনে একটি ফ্লাট ও ২২০/৩/সি দক্ষিণ পীরেরবাগের আমতলা টাওয়ারে ই-৬ নাম্বারের ১,৬৩০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটটির মালিকও ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাউপাড়া মৌজায় চারজনে মিলে শেয়ারে জমি ক্রয় করে। সেই জমিতে মনিরুজ্জামানের নামসহ মালিকানা সাইনবোর্ড দেখা গেছে।
সাতাইশ, টঙ্গী, গাজীপুরে জমি ক্রয় করে তৈরি করেছেন টিনশেড বাড়ি। সেখানে ৯টি রুম করে ভাড়া দিয়েছে। বরিশালের চাঁদমারি, বান্দ রোডে ১০ শতাংশ জমির উপরে টিনসেড তিন ইউনিটের ঘর রয়েছে তার। জানা গেছে বর্তমানে এখানে জমির শতাংশ ৩৫ লক্ষ টাকা করে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে, এই হিসেবে তার মোট জমির মূল্য রয়েছে ৩,৫০,০০,০০০/=। এখান থেকে মাসে ১৫,০০০/- টাকা ঘর ভাড়া পায় । এছাড়াও বরিশালের কাশিমপুর এলাকায় পাঁচতলা ভবন রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাউফলের ছিটকা রণভৈরবে মনিরুজ্জামানের পৈতৃক ভিটার কাছের বাজারে রয়েছে তার সুবৃহৎ ৩ তলা বাড়ি, যার নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়াও নিজ পৈত্রিক ভিটার কাছেই ৯৬০ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি। বাউফলে রয়েছে একাধিক মাছের ঘের। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় জমিও কিনে রেখেছে।
তিনি অফিসে আসেন খুব সাদাসিদে ভাবে, তবে ব্যক্তি জীবনে চলাফেরার জন্য একটি ইয়ামাহা এফজেডএস ভার্সন২ মটরসাইকেল এবং একটি বিলাসবহুল টয়োটা প্রিমিও ২০১৭ মডেলের প্রাইভেট কার রয়েছে। মনিরুজ্জামানের এমকে ডিজাইন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্স লি: নামে রয়েছে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যদিও এই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৫ থেকে তার স্ত্রী গৃহিনী কানিজ জাহানের নামে নিবন্ধিত। প্রতিষ্ঠানটির নামে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট। একই নামে গাজীপুরের টঙ্গির সাতাইস স্কুল এন্ড কলেজ মার্কেটে রয়েছে আরেকটি অফিস। এই সকল বিষয় নিয়ে ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজী হয়নি।
আমার বার্তা/এমই

