
পাহাড় থেকে সমতল–প্রকৃতির হিমশীতল শাসনে কাঁপছে গোটা দেশ। একদিকে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের গর্জন, অন্যদিকে উত্তুরে হাওয়ার মরণকামড়–এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে যখন জবুথবু জনজীবন, ঠিক তখনই আবহাওয়া অফিস শোনাল আরও এক হাড়কাঁপানো দুঃসংবাদ।
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধু শ্রীমঙ্গল নয়, রাজধানী ঢাকায়ও পারদ নেমেছে ১২.৯ ডিগ্রিতে। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ ঢাকা পড়ছে ঘন কুয়াশার ধূসর চাদরে, যেখানে সূর্যের দেখা মিললেও নেই কোনো উত্তাপ।
মো. হাফিজুর রহমান জানান, শীতের এই দাপট এখনই কমছে না; বরং আগামী ২৪ ঘণ্টা পর রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বর্তমানে চলমান শৈত্যপ্রবাহের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও মৌলভীবাজার জেলাগুলোতে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের যে শৈত্যপ্রবাহ বইছে, তা আরও কঠোর রূপ ধারণ করতে পারে।
সিনপটিক অবস্থা বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে আজ সকালেই ‘গভীর নিম্নচাপ’ আকারে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে দেয়া ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা অব্যাহত থাকবে। রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও আগামীকাল থেকে তা আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পৌষের এই শেষ লগ্নে শীতের এমন আগ্রাসী রূপে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্ব আরও কয়েক দিন দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা পৌষের রাতগুলোকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও কঠিন করে তুলবে।
আমার বার্তা/এল/এমই

