
পর্তুগালের কোচ জর্জে জেসুস যতই রোনালদোর সঙ্গে বিরোধ নেই বলে অস্বীকৃতি দিন না কেন, তার প্রতি অসন্তোষ থেকেই যে এই তারকা জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন সেটি বলা বাহুল্য। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের দিন দুয়েক আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই সর্বোচ্চ গোলদাতা। যে কারণে সিআরসেভেন ৬ মাসের বড় নিষেধাজ্ঞায় পড়ার ঝুঁকিতে আছেন।
এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলা বিধিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প চলার মাঝপথে ফিরে যাওয়ার শাস্তি হিসেবে ৬ মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা এবং ৫০০ থেকে ১০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার নিয়ম রয়েছে। তিনি অনুশীলন, ম্যাচ কিংবা জাতীয় দলের যেকোনো কার্যক্রম থেকে সরে গেলেও ওই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এফপিএফ–এর বিধিতে বলা হয়েছে, ‘নিয়মিতভাবে ডাক পাওয়া সত্ত্বেও কোনো খেলোয়াড় যদি যৌক্তিক কারণ ছাড়া জাতীয় দল, এফপিএফ বা পর্তুগালের ক্রীড়া-প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অনুশীলন, ম্যাচ বা কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন কিংবা তাতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে এক থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। এ ছাড়া ওই খেলোয়াড় পেশাদার হলে তাকে ৫০০ থেকে ১০০০ ইউরো জরিমানাও করা হবে।’
৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্প ছাড়ার কথা জানিয়ে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ক্যাম্প ছাড়ার কারণ ‘উপযুক্ত সময়ে’ জানানোর কথা উল্লেখের পাশাপাশি সতীর্থদের শুভকামনা জানিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরোয়ার্ড রোনালদো, ‘উপযুক্ত সময়ে আমি সব পর্তুগিজ মানুষকে এর কারণ সম্পর্কে সত্যিটা জানাব, যে কারণে আমাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এই দলের প্রতি আমি সবসময় নিবেদিত ছিলাম। এখন পর্তুগাল এবং আমার সব সতীর্থের জন্য, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই শুভকামনা জানানোর সময়।’
এর আগে বুধবার পর্তুগালের অনুশীলনেও ছিলেন না রোনালদো। সতীর্থরা যখন ডেনমার্ক ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তিনি হঠাৎ মাঠ ছেড়ে হোটেলে ফেরেন। এ ছাড়া ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ জেসুস বলেন, প্রতিটি খেলোয়াড়ই জানেন যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কোচের এবং রোনালদোও তাকে জানিয়েছিলেন কোচের যেকোনো সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে ডেনমার্কের বিপক্ষে গঞ্জালো রামোসকে আক্রমণভাগে খেলানোর কথাও জানান তিনি। এর মাঝে মূলত রোনালদোকে শুরুর একাদশে না রাখারও প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছিল!
নরওয়ে ম্যাচে নামাননি কোচ, এবার অনুশীলন না করে হোটেলে ফিরলেন রোনালদো
জেসুস বলেন, ‘সবার জন্য নিয়ম একই। ম্যাচে কী হবে আমি জানি না। কোনো সময় যদি আমাদের রোনালদোকে প্রয়োজন হয় সে খেলবে। যদি প্রয়োজন না হয়, খেলবে না।’ সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরেও প্রায় এক বছর রোনালদোর সঙ্গে কাজ করা জেসুস বলেন, বেঞ্চে বসানোর পর অনুশীলন করতে রোনালদো অস্বীকৃতি জানাননি। তার দাবি, ‘মনে হচ্ছে আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা হয়েছে, কিন্তু কোনো সমস্যা হয়নি। সিদ্ধান্ত আমিই নিই এবং সবাই সেটা জানে। আমি যা চাই, তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। আমিই কোচ। কোনো খেলোয়াড় কখনও আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।’

