
রাজধানীকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব শহর গঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে ১৯৫৬ সালে ডিআইটি, পরবর্তীতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নামে কার্যক্রম শুরু হয়। রাজউকের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল আজকের আধুনিক ঢাকা। তবে ল্যান্ড বাংলা ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অধিক মুনাফার লোভে নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণ করে চলেছে নকশা বহির্ভূত বা ঝুঁকিপূর্ণ একাধিক ভবন যা রাজউকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পথে বড় বাঁধা। ল্যান্ড বাংলা ডেভেলপমেন্ট পোস্ট অফিস রোড মধ্য বাসাবো খিলগাঁও-এ জমির উদ্দিন পার্ক নামে নকশা না মেনে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে চলেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভবনটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটিতে তথ্য সংবলিত কোন সাইনবোর্ড নেই। ভবনটির চারপাশে রয়েছে ভয়াবহ ডেভিয়েশন। সঠিকভাবে ভয়েড রাখা হয়নি। এছাড়া এলাকাবাসীর ধারণা এ ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ জায়গা ছেড়ে দেয়া বাধ্যতামূলক তা উপেক্ষা করেছে কোম্পানিটি। ল্যান্ড বাংলা মুলতঃ ভবনটিতে প্রতি তলায় নকশার বাইরে গিয়ে অনেক বেশি পরিমাণ বর্গফুট বাড়িয়েছে যা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এলাকাবাসী আরও দাবি করেছেন, ভবনটিতে নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তাই অতি দ্রুত ভবনটি উচ্ছেদ ও কোম্পানির দায়িত্বশীলদের আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের। ল্যান্ড বাংলা ডেভেলপমেন্টের নকশা বহির্ভূত বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ আরিফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। ভূমিকম্প বা মৃদু কম্পনেও ধ্বসে পড়তে পারে এ ধরনের ভবন। এমনকি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুণ।
ল্যান্ড বাংলা ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের নকশা বহির্ভূত বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে কোম্পানিটির ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলম সরকারের সাথে কথা বললে তিনি নকশার বাইরে ভবনটিতে কিছু কাজ হয়েছে বলে স্বীকার করে নেন ও প্রতিবেদককে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন। ভবনটির ব্যাপারে রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পরিদর্শক ইয়াছিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ভবনটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
আমার বার্তা/এমই

