
মানুষের জীবন সবসময়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে আবর্তিত। এক মুহূর্তে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা মানুষ পরের মুহূর্তেই রোগ, দুর্ঘটনা কিংবা অপ্রত্যাশিত বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে মানুষের ক্ষতিকর আচরণ সবকিছু মিলিয়ে জীবনের নিরাপত্তা সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ। এই বাস্তবতায় একজন বিশ্বাসী মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা ও নিরাপত্তার আশ্রয় হলো মহান আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর কাছে প্রার্থনা।
ইসলামে দোয়া শুধু ইবাদতই নয়, বরং এটি মুমিনের আত্মিক শক্তি ও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম উৎস। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বান্দাদের দোয়ার প্রতি উৎসাহ দিয়ে বলেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফির: ৬০)। এই ঘোষণা মূলত মানুষের জন্য এক অপার আশ্বাস যে আল্লাহ তাঁর বান্দার ডাকে সাড়া দিতে সর্বদা প্রস্তুত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর উম্মতকে বিভিন্ন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলোর মধ্যে কিছু দোয়া বিশেষভাবে নিরাপত্তা ও হেফাজতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে একটি বহুল পরিচিত দোয়া হলো-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামের সাথে কোনো কিছুই আসমান ও জমিনে ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।”
এই দোয়া সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে তিনবার এবং সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, আল্লাহর অনুমতিতে কোনো অনিষ্ট তার ক্ষতি করতে পারবে না। (তিরমিজি: ৩৩৮৮)
অন্য বর্ণনায় এই দোয়ার ব্যাপারে আরও বলা হয়েছে যে, এটি নিয়মিত পাঠ করলে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগ, শারীরিক কষ্ট এবং অজানা বিপদ থেকেও সুরক্ষা লাভ করে। পাশাপাশি এটি অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি তৈরি করে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা আরও দৃঢ় করে তোলে।
এই আমল করার নিয়ম খুবই সহজ। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনবার এবং মাগরিবের নামাজের পর তিনবার এই দোয়া পাঠ করা সুন্নতসম্মত আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু পাঠ করাই যথেষ্ট নয়, বরং অর্থ অনুধাবন করে, আন্তরিক বিশ্বাস ও একাগ্রতার সাথে দোয়া করলে এর প্রভাব ও আত্মিক অনুভূতি আরও গভীর হয়।
বর্তমান জীবনে মানুষ প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে, পরিবারকে এবং সমাজকে নিরাপদ রাখার জন্য এই ধরনের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো জীবনের অংশ করে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ইসলাম দোয়ার মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের শিক্ষা দেয়। তাই নিয়মিত এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন যেমন আত্মিক শক্তি অর্জন করতে পারে, তেমনি আল্লাহর রহমত ও নিরাপত্তার ছায়াতেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

