
নতুন বছরকে ঘিরে আতশবাজি ও উৎসবের পরিবর্তে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত প্রজাতন্ত্র দাগেস্তানের একটি শহর। মসজিদের লাউডস্পিকারে কোরআন তেলাওয়াত সম্প্রচার করে বছরের শেষ রাতটি পালন করেছে খাসাভইউর্ত শহর।
রাশিয়ার উত্তর ককেশাস অঞ্চলের দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের খাসাভইউর্ত শহরে নতুন বছরের শুরুতে মসজিদের লাউডস্পিকারে কোরআন তিলাওয়াত সম্প্রচার করা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত এই উদ্যোগ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের অনেক দেশে যেখানে নতুন বছর উদযাপন মানেই আলোকসজ্জা, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও আতশবাজি, সেখানে খাসাভইউর্তে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শহরজুড়ে মসজিদ থেকে ভেসে আসে পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত, যা অনেক বাসিন্দার কাছে দুনিয়াবি উৎসবের চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
দাগেস্তান রাশিয়ার একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র, যেখানে জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মুসলিম। ফলে ধর্মীয় অনুশীলন ও ইসলামী সংস্কৃতি এখানকার সামাজিক জীবনে গভীরভাবে প্রোথিত।
স্থানীয়দের মতে, নতুন বছরের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহমুখী জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ধরনের আয়োজন ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের একটি শান্তিপূর্ণ উপায় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতারাও সাধারণত এমন উদ্যোগকে সমর্থন দিয়ে থাকেন। তাদের মতে, এতে করে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ধর্মীয় চেতনা ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
নতুন বছরের সূচনায় খাসাভইউর্তের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই একে আধুনিক সময়েও ইসলামী সংস্কৃতির দৃঢ় উপস্থিতির একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন
আমার বার্তা/জেএইচ

