
‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দুটি দলের শীর্ষ দুই নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে এসব কথা জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ১৩ মিনিটে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলেন। তিনি লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশা আল্লাহ।’
এরপর আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আরেকটি পোস্টে শিশির মনির লেখেন, ‘রাজনীতিতে নতুনত্ব আনুন। সরকারি দল মন্ত্রিসভা গঠন করুক। বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করুক। সংসদের ভেতরে-বাহিরে তুমুল বিতর্ক হোক। তবেই সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।’
এই পোস্টের কিছু সময় পরই ১০টা ১৬ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির কথা জানান।
তিনি পোস্টে লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’
কী এই ছায়া মন্ত্রিসভা?
সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো বিরোধী দলের গঠিত একটি বিকল্প কাঠামো, যা ক্ষমতাসীন সরকারের সমান্তরালে কাজ করে। এই মন্ত্রিসভার কাজ হলো সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা। এ ছাড়া এটি সরকারকে নিয়মিত জবাবদিহির মধ্যে রাখে। এ ধরনের মন্ত্রিসভা সাধারণত যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়।
এনসিপি এর আগেও গত বছর ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। ছায়া মন্ত্রিসভা চালু হলে সংসদীয় রাজনীতি কার্যকর হবে বলে মনে করে এনসিপি। তারা জানিয়েছিল, ছায়া মন্ত্রিসভায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।
দলটি আরও বলছে, ‘ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু একটি বিরোধীদলীয় কাঠামো নয়, বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ, যা জবাবদিহি, বিকল্প চিন্তা এবং সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশে একটি কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন ও এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি এখন সময়োপযোগী একটি মৌলিক সংস্কার।’
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে বিকল্প বা ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনীত করার প্রস্তাব দিয়েছিল এনসিপি।

