
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবাধিকার, নৈতিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ভিত্তি করে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, সরকারি খাতে এআই ব্যবহারের নীতিমালা এবং বিকেন্দ্রীভূত এআই সেন্টার অব এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠাসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শনিবার চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (WAIC) ২০২৬-এর ‘হাই-লেভেল মিটিং অন গ্লোবাল এআই গভর্ন্যান্স’-এ বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ডিজিটাল নীতি ও আইনকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
ফকির মাহবুব আনাম জানান, একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় এআই নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, এআইভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এআই গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থার জন্য তিনি চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এগুলো হলো নিরাপত্তা, সমতা, অভিযোজন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি স্থানান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যের সার্বভৌমত্ব এবং ন্যায্য প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তির প্রতিফলন ঘটাবে, বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে।
‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এআই অংশীদারিত্ব’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ বৈঠকে টেকসই উন্নয়ন, সমষ্টিগত নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, শতাধিক দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। তারা এআইয়ের ভবিষ্যৎ, সুশাসন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, ১৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত চীনের সাংহাইয়ে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (WAIC) ২০২৬’।

