
পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় ভোটারদের নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত নথির প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতে বিল পাস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি প্রস্তুত করেছে এ কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রিপাবলিকান পার্টি।
গতকাল বুধবার ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামের সেই বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপনের পর সেটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২১৮ জন জনপ্রতিনিধি এবং বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২১৩ জন জনপ্রতিনিধি।
যুক্তরাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক বিধি অনুসারে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাসের পর এবার বিলটি যাবে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে। সিনেটে যদি পাস হয়— তাহলে বিলটি যাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে। সেখানে প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরের পরে আইন হিসেবে দেশজুড়ে কার্যকর হবে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’।
আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটের মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের আগেই ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ আইন হিসেবে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিলটি পাসের পর রিপাবলিকান পার্টির এমপিরা একে স্বাগত জানিয়েছেন। আর বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপিরা বিলের সমালোচনা করে বলেছেন, এই আইন পাস হলে মার্কিন ভোটারদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে এবং পুরো পার্লামেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুক্ষিগত হবে।
‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামের এই বিলটি আসলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারকালে একাধিকবার ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক মানুষ অবৈধভাবে ভোট দেয়।
বিলটি পাসের পর এক প্রতিক্রিয়ায় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মাইক জনসন সাংবাদিকদের বলেছেন, “এটি একটি কাণ্ডজ্ঞানমূলক আইন এবং এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ব্যাপারে মার্কিন নাগরিকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে নিশ্চিত করা।”
অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক দলের এমপি, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত পার্লামেন্টারি কমিটির সদস্য এবং অন্যতম শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা জোয়ে মরেল বলেছেন, “রিপাবলিকান পার্টি আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হতে চায় এবং এ উদ্দেশেই এ বিলটি পাস করা হয়েছে। রিপাবলিকানরা চায়, সাধারণ মার্কিন ভোটারদের জন্য ভোটদান জটিল হোক এবং নির্বাচনের পুরো নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের রিপাবলিকানদের পক্ষে থাকুক।” - সূত্র : রয়টার্স
আমার বার্তা /জেএইচ

