
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, নারী হওয়ার কারণে পুরুষ পূর্বসূরিদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করার করতে হয় । তাকাইচির এই মন্তব্য দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
বুধবার পার্লামেন্ট সেশনে বক্তৃতাকালে সানায়ে তাকাইচি বলেন, সকালে উঠে আমি গোসল করি, নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই, এরপর মেকআপ করি। এসব কাজের কারণে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে আমার তিন-চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এই বক্তব্য সেকেলে লিঙ্গবৈষম্যমূলক সামাজিক মূল্যবোধ এবং অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে বলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীরাসহ বিভিন্ন অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন, ঘরের কাজের অজুহাত দিয়ে সময় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বা কাজের অহেতুক দীর্ঘসূত্রতাকে ঢেকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়াও তাকাইচি দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা প্রকাশ করায় কর্ম ও জীবনের ভারসাম্য নষ্টের ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন কেলেঙ্কারির কারণে তার নবনিযুক্ত কৃষিমন্ত্রী কাজুও ইয়ানার পদত্যাগ করাটাও প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ওপর অতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
জাপান ইনোভেশন পার্টির নেতা ফু মিতাকে ফুজিতা সংসদীয় অধিবেশনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমানোর পরামর্শ দেন এবং এনএক্সজেআই রিসার্চের গবেষণার বরাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে শেফ ও গৃহকর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দেন যাতে তিনি কেবল রাষ্ট্রীয় কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন।
সূত্র: এনবিসি নিউজ

