
গ্রুপ বীমা চুক্তির আওতায় ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি-ডিআরইউ’র দুই সদস্যের মৃত্যু দাবি পরিশোধ করেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ডিআরইউ’র সফিকুল কবির মিলনায়তনে সদস্য মৃত নিখিল মানখিন ও শ্যামল কান্তি নাগের পরিবারের হাতে প্রতিটি ৩ লাখ টাকা করে বীমা দাবির দুটি চেক হস্তান্তর করা হয়। চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল লাইফের উর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দ ও ডিআরইউ’র নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আধুনিক গণমাধ্যম এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সমন্বিত এক জগতে পরিণত হয়েছে, যেখানে তথ্য ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা যায়। মন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম খাতে বিদ্যমান অনিয়ম দূর করতে সরকার একটি আধুনিক গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই কমিশন এমন নীতিমালা তৈরি করবে, যেখানে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবে না, মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের অপব্যবহার করতে পারবে না এবং সাংবাদিকরাও তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি টেলিভিশন মালিকদের একটি সংগঠন সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘এনওসি’ বাধ্যতামূলক করার যে নোটিশ দিয়েছিল, তা সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং তাদের ‘শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার’ অপচেষ্টা। সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক সাংবাদিক ১৫ থেকে ২০ বছর কাজ করলেও কোনো সার্ভিস বেনিফিট বা প্রভিডেন্ট ফান্ড পান না। যেসব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এখনো এসব সুবিধা নিশ্চিত করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নতুন কোনো গণমাধ্যমের অনুমোদনের আগে মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের আর্থিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, অনেক সময় কোনো সাংবাদিক মারা গেলে তার পরিবারের কাছে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া কিংবা কাফনের কাপড় কেনার টাকাও থাকে না। তিনি সাংবাদিকদের পূর্ণ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ৬০ বছরের বেশি বয়সী সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠনেরও দাবি জানান।
ডিআরইউ'র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ডিআরইউ সবসময় সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে আসছে। বছরজুড়ে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন ছুটি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নেরও জোর দাবি করেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও মো. কাজিম উদ্দিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য সুমন চৌধুরী প্রমুখ।
আমার বার্তা/এমই

