
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের শেষবারের মতো পরখ করে নিতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আকাশী-সাদা শিবিরে সবচেয়ে স্বস্তির খবরটি এলো এই ম্যাচেই। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেন দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি। আর ফিরেই গোল করে জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের জন্য তিনি প্রস্তুত।
আলাবামায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন মেসি। ম্যাচের ৬৯ মিনিট ৪ সেকেন্ডে জুলিয়ানো সিমেওনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাঠে নামার পর নিজের ছাপ রাখতে সময় নিয়েছেন মাত্র ৫৩ সেকেন্ড।
মেসির দারুণ এক পাসে আক্রমণে ওঠেন লাউতারো মার্টিনেজ। শট নিতে গিয়ে আইসল্যান্ডের গোলরক্ষকের ফাউলের শিকার হন তিনি, পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এরপর স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করলেন না মেসি। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১১৭-তে নিয়েছেন মেসি। একই সঙ্গে গড়েছেন নতুন এক রেকর্ডও। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলার হলেন তিনি।
এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি অ্যাঞ্জেল লাবরুনার দখলে। ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোকা কাপে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন তিনি। প্রায় সাত দশক পর সেই রেকর্ড ভাঙলেন মেসি।
এ ছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেই পেনাল্টি থেকে ৪টি গোল করে যৌথভাবে বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে রেখেছিলেন মেসি। তবে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে আর একটি মাত্র গোল করলেই ফুটবল ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে তা এককভাবে নিজের করে নেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে।
গত ২৪ মে ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন মেসি। তবে চোট গুরুতর না হওয়ায় দ্রুতই সেরে ওঠেন। প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেটিই হবে মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ।
আমার বার্তা /জেএইচ

