
সমিতির জমি জবর দখল ও প্রকৃত মালিকদের জমিতে গেলেই মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঐ জমির কেয়ার টেকারের বিরুদ্ধে!
জানা যায় ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া আদর্শ গ্রামে সরকারি ২০ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছেন ন্যাশনাল প্লাজা বহুমুখী সমবায় সমিতি এই সমিতির নামে ২০০৫ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে বিশ একর জমি বরাদ্দ পান সমিতির পক্ষে সমিতির সভাপতি মোঃ আইয়ুব আলী। এই জমি ২০০৫ সালেই ঢাকা জেলা ডিসি আশুলিয়া থানা প্রশাসনের সহায়তায় আইয়ুব আলী গংদের বুঝিয়ে দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়।
২০১০ সালে সমিতির কিছু অসাধু সদস্য মোটা অংকের টাকার বিনিময় জমির কিছু অংশ বিক্রি করে দেন এই সংবাদ ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে গেলে ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের বরাদ্দ বাতিল করেন। মোহাম্মদ আইয়ুব আলী পুনরায় বরাদ্দ পাওয়ার জন্য হাইকোর্টের রিট আবেদন করেন এবং তিনি অনেক দৌড় ঝাপের পরে পুনরায় ঐ জমির বরাদ্দ পান।
এরপর থেকে এই সমিতির বিভিন্ন সদস্যরা ওখানে ঘর নির্মাণ করে পরিবার সহ বসবাস করে আসছেন। এই জায়গা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কেয়ারটেকার হিসেবে আউকপাড়া আদর্শ গ্রাম এলাকার সাদ্দাম হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এই সাদ্দাম হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে তিনি তার বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে ওখানে ঘর তুলে জায়গা দখল করে নেন এবং গড়ে তোলেন এক সন্ত্রাসী বাহিনী। এই সাদ্দাম পুর্বে পতিত আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও ৫ আগষ্টের পর খোলস বদলে কৌশলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ইউনিয়ন সভা পতির পদ বাগিয়ে নেন পরবর্তীতে বিষয়টি পত্র পত্রিকা সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে ঐ পদ সহ দল থেকে বহিষ্কৃত হয় সাদ্দাম।
তারপর থেকে এই সাদ্দাম হোসেন তার পু্র্ব দল আওয়ামীলীগের পলাতক লোকজন সহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে ওখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক বাণিজ্য শুরু করেন এমনকি কিশোর গ্যাংদেরও লিড দেন এবং সমিতির প্রকৃত সদস্যদের ওখানে ঢুকতে দেন না তিনি, সমিতির সদস্যরা নিজেদের জায়গায় প্রবেশ করতে গেলে সাদ্দামের অবৈধ দখলদাররা তাদের উপরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে।
ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত সমিতির পুরো জায়গাটা গিলে খেতে চান এই সাদ্দাম ও তার অবৈধ দখলদাররা। বরাদ্দকৃত জমি, আবারও বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন এই মর্মে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে ছিলেন সাদ্দাম বাহিনীরা।
সম্প্রতি সন্ত্রাসী সাদ্দাম তার দুই সহযোগী সহ RAB-4 হাতে অস্ত্র সহ আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সাদ্দাম কারাগারে যাওয়ার পর প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় সেই অবৈধভাবে লাগানো সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলেন সমিতির সদস্যরা। এলাকাবাসী ও সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, সাদ্দাম কারাগারে থাকলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ও সংঘবদ্ধ নারী সন্ত্রাসী চক্র এখনো তৎপর রয়েছে। ঐ জমির কাছে কেও গেলেই তাকে মারধর করে এমনকি নিজেদের শরিরের কাপড় নিজেরাই ছিড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার সহ শ্লীলতা হানির মামলা দিয়ে হয়রানী করে।
সাদ্দামের কিশোর গ্যাং, মাদক বাণিজ্য এবং সন্ত্রাসী বাহিনী অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন জমির প্রকৃত মালিক ও এলাকাবাসী।
আমার বার্তা/এমই

