ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রতারণার ফাঁদে সাব-কন্ট্রাক্টর সুলতান

চুক্তি অনুযায়ী ১০তলা ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন
রতন বালো
২৬ মে ২০২৪, ১১:৪০
প্রতারণার স্বীকার সাব-কন্ট্রাক্টর মো. সুলতান শিকদার

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মৃত্যুর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন সাব-কন্ট্রাক্টর মো. সুলতান সিকদার। চুক্তি অনুযায়ী, ১০তলা ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। যাত্রাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। থানা পুলিশ কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পরে তিনি ঢাকা বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা করার পরও তিনি শান্তিতে নেই। ওই ঘটনাটি ঘটেছে যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল ইউনিয়নের ৬৫ নং ওয়ার্ডে দক্ষিণপাড়া ইনুপট্টি এলাকায়। ওই ঘটনার মূল হোতা হচ্ছেন হাজী মনির হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান (৩০)।

জানা গেছে, মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া ইনুপট্টি এলাকায় একটি ১০তলা ভবন নির্মাণের জন্য মো. সুলতার সিকদার সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ পান। মো. মিজানুর রহমান হলেন ওই ভবনের মালিক। তার সাথে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সুলতান সিকদার চুক্তি সই করেন। শর্তসাপেক্ষে সুলতান শিকদার কাজ পরিচালনা শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে তিনতলা পর্যন্ত ভবনের কাজ করা অবধি মিজানুর রহমান কোনো শর্ত মানছেন না এবং পাওনা টাকাও দিচ্ছেন না।

গত ১০ জানুয়ারি রাত ৮টায় মিজানুর রহমানের কাছে সুলতান সিকদার হিসাবের খাতা নিয়ে যান। মিজানুর রহমান সুলতানের কাছ থেকে খাতাটা নিয়ে নেন। পরে সুলতান হিসাবের খাতা আনতে গেলে তাকে হত্যা করে লাশ ঘুম করবেন বলে হুমকি দেন মিজান। এর পর ১৭ জানুয়ারি রাত ৮টায় সুলতান তার হিসাবের খাতা ও পাওনা লেবার বিল চাইতে গেলে সে সময়ও মিজানুর রহমান তাকে হত্যা করে লাশ পানির ট্যাংকির মধ্যে ফেলে রাখবেন বলেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।

সুলতান সিকদার নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১৮ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন যার নং ১৪১২। এই জিডির চার মাসের মধ্যেও থানা পুলিশ কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল মো. সুলতান সিকদার ঢাকার বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মো. সুলতান সিকদার বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের সাব-কন্ট্রাক্টর। শান্তিপ্রিয় নিজ পেশায় সার্বক্ষণিক কর্মজীবী মানুষ। আর মো. মিজানুর রহমান ধূর্ত প্রতারক এবং আইন অমান্যকারী। তার পরও তিনি হাজী মনির হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার কোনো আদর্শ তার মধ্যে নেই। তিনি সুলতানের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব কেড়ে নেন। একজন শিক্ষক হয়ে এমন অসৎ কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে এলাকাবাসী শঙ্কা প্রকাশ করেন।

গাব-কন্ট্রাক্টর মো. সুলতান মিয়া বলেন, মো. মিজানুর রহমান আমাকে প্রথম কিস্তিতে তিন লাখ, দ্বিতীয় কিস্তিতে দুই লাখ টাকা নগদ প্রদান করেন এবং প্রতিদিন প্রতি শ্রমিকের মাথাপিছু দ্বিতীয় তলা নির্মাণ পর্যন্ত ৬০০ টাকা করে প্রদান করেন। তৃতীয় তলার কাজ পিলার নির্মাণে এক লাখ টাকা, সাটার ফিটিংয়ের সময় ২০ হাজার, রড বাইন্ডিংয়ের জন্য ৫০ হাজার, ছাদ ঢালাই সর্দারের খরচ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট দুই লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

তিনি জানান, প্রথম তলার রাজমিস্ত্রির কাজ বাবদ তিন লাখ, বাউন্ডারি বাবদ এক দেড় লাখ, দ্বিতীয় তলায় আস্তরসহ গাঁথুনি সাড়ে চার লাখ টাকাসহ কাজের মোট বিল হয় ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৫৪০ টাকা। এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। বাকি ১০ লাখ ১৬ হাজার ৫৪০ টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দিলে মো. মিজানুর রহমান পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মিজানুরের চিহ্নিত লোকেরা হুমকি দিয়ে বলে, তোমার (সুলতান) বিল্ডিং নির্মাণ যন্ত্রপাতি নিতে এলে চিরতরে পঙ্গু করে ভিক্ষার ঝুলি হাতে ধরিয়ে দেবো।

অবশেষে মো. সুলতান তার ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ভবন নির্মাণসামগ্রী ফেলে চলে আসেন। এরপর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ আদালতে মামলার কথা জানায়।

এ ব্যাপারে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সমাজের লোকেরা বিষয়টি নিয়ে মীমাংসা করেছেন। সে কারণে আইনগত বিষয়ে কোনো কিছুই করা হয়নি বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে হাজী মনির হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ১০তলা ভবন মালিক মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মো. সুলতার সিকদার আমার ১০তলা ভবন নির্মাণের সাব-কন্ট্রাক্টর। উনি ( সুলতান) আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা বেশি নেয়। আমি তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি বলেন, খরচ করে ফেলেছি। ভবিষ্যতে কাজ করে দেবো। তখন আমি বলেছি, কাজ আর করাব না। আমি যে পাঁচ লাখ টাকা পাই, সুলতান তা অস্বীকার করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে মারধর, হুমকি-ধমকি দেয়া হয়নি। একপর্যায়ে এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় সুলতান মিজানকে আড়াই লাখ টাকা দেয়ার জন্য। এটাই তিনি (সুলতান) মান্য করেননি। পরে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং আদালতে মামলা করেন। যেহেতু সুলতান মামলা করেছেন, আইনের প্রতি আমার সম্মান আছে। বর্তমানে মামলায় যা হয় তাই তিনি মেনে চলবেন বলে তিনি জানান।

আমার বার্তা/জেএইচ

স্বস্তি নেই মসলার বাজারে

বছরে দুটি ঈদ আসে। একটি সেমাই, চিনির চাপ বাড়াতে অন্যটি মসলার বাজার গরম করতে। সেই মসলার

থমকে গেছে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন

গত ২৮ অক্টোবর বিএনপি জোট তাদের স্বার্থক ঢাকা অবরোধ করে একরকম ভেবেই নিয়েছিল সরকার পড়বে। 

ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি

ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না দেশের এক সময়কার একাধিকবার ক্ষমতায় থাকা দল বিএনপি। দলে ভর করেছে

এবার পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় আসবে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন

ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু হচ্ছে কাল ১০ জুন থেকে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এ ট্রেন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পল্টনের আগুন: ধোয়ায় অসুস্থ নারী ঢামেক বার্ন ইউনিটে 

দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে ড. ইউনূসের

পল্টনের ফায়েনাজ টাওয়ারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

দুই পৌরসভায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তি, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

মিয়ানমারে দারিদ্র্য গভীর হয়েছে: বিশ্ব ব্যাংক

ফাজিলের ফল প্রকাশ, জানবেন যেভাবে

আমরা বাস করি ভূ-তলে, বিনিয়োগ করি পাতালে

যানজট এড়াতে ডিএমপির ২২ পরামর্শ

বেনজীরের আরও সম্পদ ও ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ

তিস্তা মহাপরিকল্পনার বর্তমান পরিস্থিতি জানালেন প্রধানমন্ত্রী

জম্মু ও কাশ্মীরে ৭২ ঘণ্টায় তিন হামলায় নিহত ১২

নড়াইলে হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

অর্থনীতি অদক্ষতার ফাঁদে আটকে আছে: হোসেন জিল্লুর

শান্তিতে ভারত-পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে এগিয়ে বাংলাদেশ

অনেক বড় জায়গা থেকে তদবির হচ্ছে: আনারকন্যা ডরিন

এমপি আনার হত্যা মামলা তদন্তে কোনো চাপ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে সরকার

সীমান্তে গুলি চালাতে পারে বিএসএফ: বিজিবির মাইকিং

না ফেরার দেশে চলে গেল দগ্ধ শিশু আয়ান