ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ইসরায়েলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অজানা আশঙ্কায় বিশ্ববাসী

পারভেজ খান:
প্রিন্ট ভার্সন:
১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৪:৩৬
আপডেট  : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৪:৪৭

গত শনিবার রাতে ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সেই জবাব ইসরায়েল কীভাবে দেবে, সেটার ওপরই নির্ভর করছে চলমান সংঘাত কোন দিকে গড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশ এই পরিস্থিতিতে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে দুই পক্ষকেই। এর মধ্যে এমন অনেক দেশও আছে, যারা ইরান সরকারকে ঘোরতর অপছন্দ করে। পাশাপাশি এই বিপদের সময় বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পাচ্ছে না ইসরায়েল। হোয়াইট হাউজ সরাসরি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক হামলায় অংশ নেবে না। অপরদিকে ইরান বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে যদি ইসরায়েল পাল্টা আঘাত হানে সেক্ষেত্রে আরও অনেক শক্তিশালী হামলা চালানো হবে। ফলে এক অজানা আশংকায় আছে বিশ্ববাসী। পরিণতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা যেহেতু কোনো একটি পক্ষের ওপর নির্ভর করছে না। তাই আপাতত সারা দুনিয়াকেই পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখতে হচ্ছে।

শনিবারের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই প্রায় সবগুলো অস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্রবাহিনী। ইরানের ছোঁড়া ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের ৯৯ শতাংশই ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসরায়েল।

এই হামলার পর মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েলকে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ‘সাবধানে’ বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসরায়েল বা তার সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আরও বড় আক্রমণ চালাবে তারা।

ইরানের মিডিয়াগুলো ঘেটে জানা গেছে, হামলার পর ইরানের কর্তৃপক্ষ তো বটেই, দেশের সাধারণ মানুষও বেশ খুশি। তেহরানের রাস্তায় নেমে তারা উল্লাসও করেছেন।

ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মতে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে এই মুহূর্তে যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তাকে অনেকেই সেদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘কট্টরপন্থি’ বা হার্ডলাইন সরকার বলে বর্ণনা করে থাকেন। গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের চালানো অতর্কিত হামলার জবাব দিতে ইসরায়েল সময় নিয়েছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তবুও ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা একটানা গাজা ভূখণ্ডে তীব্র অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

মনে হচ্ছে গাজাকে যেন তারা প্রায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চাইছে। ফলে অনেকের ধারণা, ইরানের এই প্রত্যক্ষ হামলার কোনো জবাব না দিয়ে হাত গুটিয়ে থাকবে না। তারা ভাবছে, এই সংকটে এখন কী কী রাস্তা বা ‘অপশন’ খোলা আছে? কিছু কিছু সূত্র অবশ্য ভিন্ন কথাও বলছে। তাদের মতে, ইসরায়েল এখন তাদের প্রতিবেশীদের কথায় আমল দেবে এবং একটা ‘স্ট্র্যাটেজিক পেশেন্স’ বা ‘কৌশলগত ধৈর্য প্রদর্শনে’র রাস্তায় হাঁটবে। এর অর্থ হলো, সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা হামলা না চালিয়ে তারা ওই অঞ্চলে ইরানের যেসব ‘প্রক্সি অ্যালাইজ’ বা শরিকরা আছে, তাদের ওপর অভিযান চালিয়ে যাবে। এর মধ্যে আছে লেবাননের হিজবালুøহার মতো গোষ্ঠী কিংবা সিরিয়াতে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ কেন্দ্রগুলো। যার বিরুদ্ধে ইসরায়েল বিগত বহু বছর ধরেই হামলা চালিয়ে আসছে।

আরেক মহলের মতে, ইরান যে ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা ঠিক সেই রকম ‘সাবধানে ও মেপে মেপে’ (‘কেয়ারফুলি ক্যালিব্রেটেড’) হামলা চালাতে পারে। যার নির্দিষ্ট লক্ষ্য হবে ইরানের সেই মিসাইল বেসগুলো, যেখানে থেকে তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। শুধু নির্দিষ্ট মিসাইল বেসগুলোই নয়, ইরানের অত্যন্ত শক্তিশালী রিভোলিউশনারি গার্ডসের ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ শিবির ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারগুলোকেও আক্রমণের নিশানা করবে। তবে ইসরায়েল যদি এই অপশনটা বেছে নেয়, তাহলে ইরান সেটাকেও ‘এসক্যালেশন’ বা যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখবে। কারণ বহু বছরের বৈরিতা সত্ত্বেও ইসরায়েল ইতিপূর্বে কখনোই সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালায়নি। বরং তারা ওই অঞ্চলে ইরানের সঙ্গী বা প্রক্সি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে আক্রমণেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে।

আর একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই সংঘাতে কি আমেরিকাও জড়িয়ে পড়তে পারে

অনেকে মনে করেন, পরিস্থিতি এমন দাঁড়াতে পারে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী আর ইরানের মধ্যেও পুরোদস্তুর গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, উপসাগরীয় (গালফ) আরব অঞ্চলের ছয়টি দেশেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আছে। এছাড়া তাদের সামরিক ঘাঁটি আছে সিরিয়া, ইরাক ও জর্ডানেও। বহু বছরের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান যে ব্যালিস্টিক ও অন্য নানা ধরনের মিসাইলের বিপুল ভাণ্ডার তৈরি করেছে। মার্কিন এই সামরিক ঘাঁটিগুলো সেসব ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় পরিণত হতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আর একটা হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। তারা যদি আক্রান্ত হয় তাহলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে।

তারার আরও মনে করেন, কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি যদি ইরান মাইন, ড্রোন ও ফাস্ট অ্যাটাক ক্র্যাফট দিয়ে বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত রুটটি অচল হয়ে পড়বে। বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ স্তব্ধ হয়ে যাবে। অবধারিতভাবে সেটা হবে একটা দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি। যে কারণেই বিশ্বের প্রায় সব শক্তিধর দেশ সেই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিবিসির পার্সিয়ান বিভাগের সাংবাদিক জিয়ার গোল মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব দেশ ইরানের মিত্র বা শরিক হিসেবে পরিচিত। তাদের মধ্যে এবং ইরানের ভেতরেও সমর্থকদের মধ্যে আইআরজিসির গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য এই হামলা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি জানান, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যেসব নিশানাকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছেন, এর মধ্যে সেদেশের নোটাম বিমানবাহিনী ঘাঁটিও (এয়ারফোর্স বেস) ছিল। দুই সপ্তাহ আগের হামলায় দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে সাতজন আইআরজিসি কমান্ডার নিহত হয়েছিলেন। সেই যুদ্ধ বিমানগুলো এই ঘাঁটি থেকেই উড়ে গিয়েছিল। মেজর জেনারেল বাঘেরি এটাও জানিয়েছেন, ইরান ‘লক্ষ্য অর্জন করেছে’ এবং অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কোনো অভিপ্রায় তাদের নেই।

অপরদিকে ইরানিয়ান প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নতুন করে (ইরানের বিরুদ্ধে) কোনো হামলা চালানো হলে ইরান অনেক কঠোর প্রত্যুত্তর দেবে।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানীতে ইরানি কনস্যুলেটে হামলায় ইরানের দুই জেনারেলসহ ১৩ জন নিহত হন। কেউ দায়ভার স্বীকার না করলেও এ হামলা ইসরায়েল চালিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনার পরপরই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিলো তেহরান।

গত রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ‘খুব সাবধানে এবং কৌশলগতভাবে চিন্তা করতে’ বলেছেন।

গত ১৩ এপ্রিল রাতে ইরানের হামলার সময় মার্কিন বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ৮০টিরও বেশি ড্রোন এবং কমপক্ষে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরাকের ওপর দিয়ে ভূপাতিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উপসাগরীয় ছয় দেশসহ সিরিয়া, ইরাক এবং জর্ডানে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ বাঁধলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে এসব ঘাঁটি।

ইরান আরও একটি বড় কাজ করতে পারে। সেটি হলো- হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়া। মাইন, ড্রোন ও দ্রুতগামী জলযানের সাহায্যে এই রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে তেহরান। সেটি হলে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল সরবরাহ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনটি ঘটলে সেটা সারা বিশ্বের জন্যই দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়া আটকাতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশ।

এদিকে মার্কিন নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে এ বিষয়ে বার বার পরিষ্কার করেছে যে, তারা বড় ধরনের সংঘাত চায় না। শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একই ধরনের বার্তা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইরানকেও জানানো হয়েছে।

গত রোববার ইরানি মিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈধ প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুসারে পরিচালিত ইরানের সামরিক পদক্ষেপ ছিল দামেস্কে তাদের কূটনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী শাসকদের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া। বিষয়টি শেষ বলে মনে করা যেতে পারে। তবে, ইসরায়েলি সরকার যদি আরেকবার ভুল করে, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি কঠোর হবে। এটি ইরান এবং ইসরায়েলি শাসকদের মধ্যে সংঘাত, যা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে!

একই কথা বলেছেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাঘেরিও। দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিকে তিনি বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাইলে তাদের প্রতিক্রিয়া ১৩ এপ্রিলের সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে অনেক কঠোর হবে।

এসময় ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে ইরানি কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতিশোধকে যে কোনোভাবে সমর্থন করলে তার ফল ভোগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানীতে ইরানি কনস্যুলেটে হামলায় ইরানের দুই জেনারেলসহ ১৩ জন নিহত হন। কেউ দায়ভার স্বীকার না করলেও এ হামলা ইসরায়েল চালিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনার পরপরই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দেয় তেহরান।

এদিকে আলোচিত এই হামলা নিয়ে তুরস্ক, জর্ডান ও ইরাকি কর্মকর্তারা রোববার বলেছেন, ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েকদিন আগে থেকে ইরান সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান রোববার বলেছেন, ইরান, ইসরায়েল ও তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর ৭২ ঘণ্টার আগে নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন তেহরান ওয়াশিংটনকে সতর্ক না করেই ইচ্ছাপূর্বক আক্রমণ চালিয়েছে।

আইডিএফের (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস) মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি জানান, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আঘাত করেছে এবং একটি সামরিক ঘাঁটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার আগে তারা ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছিল। তুর্কির কূটনৈতিক সূত্র অনুসারে, ইরান আশ্বস্ত করেছিল যে তারা শুধু দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েলের হামলার জবাব দেবে, এর বেশি কিছু করবে না। আর ইরান যে হামলা চালাবে তা তুরস্ক জানত। ফলে হামলার পর খুব বেশি অবাক হয় নি তারা।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহিয়ানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সুইস মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ থাকলেও হামলার ৭২ ঘণ্টার আগাম নোটিশ তারা পায়নি বলে তারা নিশ্চিত করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা একেবারেই সত্যি নয়। ইরান কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি। তারা জানায়নি এই স্থানগুলোতে হামলা হবে, তাই সেখান থেকে বেসামরিক লোকজন সরিয়ে নাও।’

এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান, তার নাগরিক বা নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরান সে অনুযায়ী যেকোনো জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট উড হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘ইরান বা তার মিত্ররা যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয় তাহলে এর জন্য ইরান দায়ী থাকবে।’

অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাড আরদান বলেন, গোটা বিশ্বকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়ার আগে ইরানকে থামাতেই হবে। এ আঞ্চলিক যুদ্ধ বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি দাই বিং বলেন, ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরান সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিষয়টি সমাপ্ত হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।

দাই আরও বলেন, ‘যদি গাজা সংঘাত চলতে থাকে, তাহলে এই বিরূপ উপস্থিতি আরও ছড়িয়ে পড়বে, যা এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ও জনগণের কোনো বড় যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা ও সামর্থ্য কোনটিই নেই।’

আলজেরিয়ার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি নাসিম গাউয়াউই বলেছেন ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের কারণে গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি এটিকে রাফায় স্থল আক্রমণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। আলজেরিয়া গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আমার বার্তা/পারভেজ খান/এমই

সড়কে শৃঙ্খলায় হিমশিম পুলিশ

বাবুবাজার বেড়িবাঁধ থেকে গাবতলী রাস্তাটি অত্যন্ত ব্যস্ত রাস্তা। লেগুনা-পিকআপ এবং বাস-ট্রাকসহ ভারি যানবাহন চলে এই

বকেয়া বেতন পরিশোধে ৩২৭ মেয়রের প্রতি চিঠি

সারাদেশের ৩২৯টি পৌরসভার সাড়ে ৩২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য পৌর মেয়রের প্রতি চিঠি

স্ত্রীকে মাছ ব্যবসায়ী বানিয়ে ঘুষের টাকা বৈধ করার চেষ্টা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মজিবুর রহমান সিকদার অবৈধ টাকা বৈধ

পুরান ঢাকার ১৮টি স্পটে ওসি ফান্ডের নামে দিনে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

রাজধানীর পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার অন্তর্ভুক্ত ১৭টি স্পট বা এলাকা এখন সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতারণার মামলায় ইভ্যালির রাসেল-শামীমা খালাস

ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ডিসেম্বরে হবে এসএসসি পরীক্ষা

ন্যায়বিচার পাওয়া মানুষের সাংবিধানিক অধিকার: প্রধান বিচারপতি

‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পেলেন ১০৪ জন

এমপি আনারের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের জন্য নদীর ভূমিকা মানুষের শিরা-উপশিরার মত

দুই-তিন মাস ধরে এমপি আনারকে খুনের পরিকল্পনা হয়

নৌপথে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

মেক্সিকোতে নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চ ভেঙে শিশুসহ নিহত ৯

সরকারের এই নীতি কর্তৃত্ববাদী শাসনের চরম দৃষ্টান্ত: রিজভী

আনার অপকর্মে জড়িত কি না তদন্তে বেরিয়ে আসবে: কাদের

নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হবে রাইসিকে

ফিলিস্তিনকে 'একতরফা স্বীকৃতি' দেওয়ায় বাইডেনের বিরোধিতা

অবশেষে ট্রাম্পকেই সমর্থন দিলেন নিকি হ্যালি

ভিয়েতনামের নতুন প্রেসিডেন্ট তো লাম

‘দণ্ড মাথায় নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ আইনের দৃষ্টিতে সমীচীন নয়’

খোলামেলা ফটোশুটে প্রিয়াঙ্কার উত্তাপ

বাংলাদেশ ব্যাংক সমবায় সমিতিতে পরিণত হয়েছে: ড. সালেহ উদ্দিন

এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত কে এই শিলাস্তি রহমান

শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগ নিয়ে সতর্ক জাতিসংঘ