কলকাতার সল্ট লেকের রবীন্দ্র ওকাকুরা ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা পরিষদের প্রথম বার্ষিক সম্মেলন। বুধবার (২৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সম্মেলনের আয়োজক ছিল শাখা কলকাতা। প্রায় ছয় মাসব্যাপী নিরলস পরিশ্রম করে আয়োজনটির বাস্তবায়ন করেন শাখার সদস্যরা।
১৯৬১ সালে আসামের শিলচরের ভাষা আন্দোলনের পৃথিবীর প্রথম মহিলা ভাষা শহীদ কমলা ভট্টাচার্যের ভ্রাতুষ্পুত্রী বর্ণালী ভট্টাচার্য এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় সন্ধ্যা ৭টায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় পরিচালন পর্ষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের শাখা প্রধান মাসুদ করিম।
উদ্বোধনের পর প্রতিটি শাখার কার্যক্রম তুলে ধরেন শাখার সভাপতি ও শাখা সচিবরা। কেন্দ্রীয় পরিচালন পর্ষদের সভাপতি মাসুদ করিমের নেতৃত্বে আট সদস্যের এক প্রতিনিধি দল এ সম্মেলনে অংশ নেয়। উপদেষ্টা শাহীনুর বেবী ও সাধারণ সম্পাদক কবি নাসির আহমেদ বাংলাদেশ শাখার পক্ষে বক্তব্য দেন।
কেন্দ্রীয় পরিচালন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক কল্যাণীর পরিমল চন্দ্র মণ্ডল কেন্দ্রীয় বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন। সংগঠনের কল্যাণী, কলকাতা, গয়েশপুর, বৈঁচি, হুগলি, আসানসোল, হ্যামিল্টনগন্জ, এগরা, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরনগর, আগরতলা, উদয়পুর শাখার প্রতিনিধিরা তাদের প্রতিবেদনের পাশাপাশি শাখার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন।
বাংলা ভাষা এবং এর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সারা বিশ্বে ‘যেখানেই বাঙালি সেখানেই আমরা, দূরত্ব কোনো সমস্যা নয়’ স্লোগান সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে এ সংগঠন। ইতোমধ্যে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে দুটি শাখা আত্মপ্রকাশ করছে। আগামী বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গঠন করা হবে আরও একটি শাখা।
ভারতের ছয়টি ভাষা ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পেলেও সেখানে বাংলা ভাষার নাম নেই। অথচ এই বাংলা ভাষায় নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাই বিভিন্ন বক্তারা এ ব্যাপারে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির ভাষণে কেন্দ্রীয় পরিচালন পর্ষদের সভাপতি, চলচ্চিত্রকার মাসুদ করিম বলেন, আমরা বারবার ছুটে আসি মাতৃভাষার টানে। পৃথিবীতে বাংলা ভাষার একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। তাই পৃথিবীর যেখানেই বাংলা ভাষা সেখানেই আমরা সবাই ছুটে যাই।
তিনি আরও বলেন, রক্ত দিয়ে কেনা এই ভাষা। আমরা প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করি। ঠিক তেমনি আমাদের শিলচরের ১৯ মে কিংবা ১ নভেম্বরের মানভূম ভাষা আন্দোলনের কথা ভুলে গেলে হবে না। তাই এই বাংলা ভাষার মান-মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।
মাসুদ করিম ঘোষণা করেন, ২০২৪ সালের দ্বিতীয় সম্মেলন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। সেই সম্মেলনে ভারত থেকে শতাধিক ভাষাপ্রেমীদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমার বার্তা/জেএইচ