
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাজীপুরের ৪৫ থেকে ৫০ লাখ তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের শ্রমিক এবার ভয়াবহ পরিবহন সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ঘরমুখী এসব শ্রমিকের জন্য পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন।
রোববার (১৫ মার্চ) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঈদযাত্রা পরিস্থিতি নিয়ে সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৬টি জেলায় প্রতিবছর ঈদের সময় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বাড়ি যান। কিন্তু ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলগামী অধিকাংশ বাসের টিকিট ঢাকাতেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত কাউন্টারগুলোতে বিক্রির জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ থাকে না। বিষয়টি নজরে আসার পর সম্প্রতি পুলিশ গাজীপুরের চন্দ্রায় উত্তরাঞ্চলগামী সব বাস কাউন্টার তুলে দিয়েছে।
এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সরাসরি কোনো বাস সার্ভিস এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে আশুলিয়া ইপিজেড, চন্দ্রা, বাইপাইলসহ গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত পোশাক কারখানা ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের এবারের ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য কার্যত কোনো নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা নেই।
এই অবস্থায় অনেক শ্রমিক এলাকাভিত্তিকভাবে দল গঠন করে ২০ থেকে ৩০ জন মিলে ট্রাক, পিকআপ কিংবা রাজধানীতে চলাচলকারী পুরনো সিটি সার্ভিস বাস ও মিনিবাস ভাড়ায় নিয়ে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সংগঠনটি বলেছে, সরকার প্রতিবছর ঈদে লক্কড়ঝক্কড় বাস ও খোলা ট্রাক-পিকআপে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করলেও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য কম ভাড়ায় যাতায়াতের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা এমন ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, গণপরিবহনের সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৮ লাখ, গাজীপুর থেকে ৩ লাখ এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ২ লাখসহ সারা দেশে ২২ লাখের বেশি পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি যেতে পারেন। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে গাজীপুরের শ্রমিকদের ঈদযাত্রা সহজ করতে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ৫০০টি বিআরটিসি বাস এবং ৫০০টি বেসরকারি কোম্পানির বাস বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
আমার বার্তা/এমই

