ই-পেপার সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভূমিকম্পে অপ্রস্তুত বাংলাদেশ, ৭.৫ মাত্রার কম্পনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আমার বার্তা অনলাইন:
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৪

ভূমিকম্প প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে মানুষের অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্নীতি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ১০ লক্ষাধিক ভবন ধসে পড়তে পারে এবং প্রাণহানি হতে পারে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের। এমন ভয়াবহ বাস্তবতায় ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতির ঘাটতি তুলে ধরেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এডাব (এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ) এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজন করে।

এডাবের চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পরিচালক একেএম জসীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্যাপস-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার। ভূমিকম্পের কারিগরি বিষয় নিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স বাংলাদেশের সাবেক পরিচালক (অপারেশন) মেজর (অব.) শাকিল নেওয়াজ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া- এটি হবেই, তবে কখন হবে তা কেউ জানে না। অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও প্রস্তুতির অভাবে বাংলাদেশ ভয়াবহ বিপদের মুখে।

বক্তারা জানান, ভবন নির্মাণ বিধিমালা না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ, নরম পলিমাটিতে ভবন ও রাস্তা তৈরি, গ্লাস বিল্ডিং, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, পানির স্তর নেমে যাওয়া, ভবনে বিকল্প বহির্গমন পথ না থাকা, দুর্নীতি, ভূমিকম্প বিষয়ে মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কার- এসব কারণে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঢাকায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ১০ লক্ষের বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। তখন মরদেহ সরানো, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া বা উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর মতো জরুরি সক্ষমতা রাষ্ট্রের নেই। হাসপাতালগুলোতেও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে, রাস্তাঘাট ভেঙে পড়বে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস বা উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে না।

এই অবস্থায় ভূমিকম্পের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সচেতনতা ও সমন্বিত প্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে জানান তারা।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় করণীয় হিসেবে বক্তারা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, কমিউনিটি, আঞ্চলিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জরুরি পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেন। তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সংস্কার, সিভিল ডিফেন্স শক্তিশালী করা, কমিউনিটি ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, স্থানীয় সরকারকে কার্যকর ভূমিকা দেওয়া, কমিশনার ও পৌর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল করা, কমিউনিটি তথ্য হাব তৈরি এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।

এছাড়া ভূমিকম্প বিষয়ে স্কুল-কলেজ, পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচার, মিডিয়া ও এনজিওদের সক্রিয় ভূমিকা, হাসপাতালের সঙ্গে মানসিক ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম, পানি ও রাস্তা ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, জিওলজিক্যাল সার্ভে বিভাগকে ক্ষমতায়ন ও পর্যাপ্ত রিসোর্স দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানভিত্তিক জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ভূমিকম্প প্রাকৃতিক হলেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ মূলত মনুষ্যসৃষ্ট। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তারা রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল করতে সম্মিলিত চাপ তৈরির আহ্বান জানান। তারা বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, ওয়াহিদা বানু, গওহর নাঈম ওয়ারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান।

আমার বার্তা/এমই

‘কিচেন কেবিনেট’ই নিত সব সিদ্ধান্ত, ৩ বার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনায় সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা

কৃষক কার্ড থেকে থার্ড টার্মিনাল: সরকারের ১০০ দিনে ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর

সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা

অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সড়কে ‘মৃত্যুর মিছিল’: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সড়কে ‘মৃত্যুর মিছিল’ শুরু হয়েছে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘কিচেন কেবিনেট’ই নিত সব সিদ্ধান্ত, ৩ বার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম

ইউরো জেতানো অধিনায়ককে ছাড়াই স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

কৃষক কার্ড থেকে থার্ড টার্মিনাল: সরকারের ১০০ দিনে ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে ১৭ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ঝড়ের কবলে চায়না সাউদার্ন গেল কলকাতায়, চট্টগ্রামের বিমান ফিরল চট্টগ্রামে

বাংলাদেশের পাশে এডিবি, ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা

সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব

তারেক রহমান সরকারের তিন মাস

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনবে ভারত: রুবিও

অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সড়কে ‘মৃত্যুর মিছিল’: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

বাড্ডায় চিপস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২

ইরান চুক্তির ‘কাছাকাছি’ আসায় তেলের দাম ২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন

মেট্রোরেলে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় চালু

র‌্যাব ক্যাম্পের দেয়াল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা

বোনাস পরিশোধ করেছে ৯৫ শতাংশ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

ইতিহাস বদলাতে দেশ ছাড়লো নারী ক্রিকেট দল

সৌদিতে এখন পর্যন্ত ২৭ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

ঈদের দিনসহ আগামী পাঁচদিনই থাকতে পারে বৃষ্টির দাপট

ডুলির সহকারী বিদেশি কোচও এসেছেন