
বাংলা চলচ্চিত্রের গানে নব্বইয়ের দশকের যে কণ্ঠগুলো আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতে সমানভাবে উজ্জ্বল, তাদের অন্যতম কনকচাঁপা। মিষ্টি ও সুরেলা কণ্ঠে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রেখেছেন এই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী।
আজ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলা গানের এই প্রিয় শিল্পীর ৫৭তম জন্মদিন। জীবনের আরও একটি বছর পূর্ণ করে সংগীতাঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণ করছেন ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা।
কনকচাঁপার পুরো নাম রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। ১৯৬৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিবাগে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায় হলেও তাঁর পৈতৃক শিকড় সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
বাংলা চলচ্চিত্রের গানে কনকচাঁপার নিয়মিত যাত্রা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার পর প্লেব্যাক জগতে তাঁর অবস্থান আরও শক্ত হতে থাকে। একই সময়ের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘মহামিলন’-এর গানও তাঁকে শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তোলে।
এরপর চলচ্চিত্রের গানে একের পর এক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কনকচাঁপা। **‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘ভালোবাসি তোমাকে’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘কাজের মেয়ে’, ‘ফুল নেবো না অশ্রু নেবো’ এবং ‘প্রেমের তাজমহল’**সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন।
নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডে নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের আগমনের সময়টিতেও কনকচাঁপার কণ্ঠ ছিল অত্যন্ত পরিচিত। চলচ্চিত্রের পর্দায় বিভিন্ন অভিনেত্রীর ঠোঁটে তাঁর গাওয়া গান দর্শকদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছিল। ফলে সেই সময়ের চলচ্চিত্র ও সংগীতের সঙ্গে কনকচাঁপার নাম এক বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
একক গানের পাশাপাশি দ্বৈত গানেও ছিল তাঁর সফল উপস্থিতি। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে মনির খান, খালেদ হাসান মিলু, আইয়ুব বাচ্চু, আসিফ, বিল্পব, আগুন ও তপন চৌধুরীসহ দেশের বহু সংগীতশিল্পীর সঙ্গে গান করেছেন তিনি। তবে প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গে তাঁর গাওয়া অসংখ্য দ্বৈত গান বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বাংলা চলচ্চিত্রের গানের ভাণ্ডারে স্মরণীয় হয়ে আছে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে কনকচাঁপা অর্জন করেছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এ ছাড়া বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার, দর্শক ফোরাম পুরস্কার, প্রযোজক সমিতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
সংগীতের বাইরেও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কনকচাঁপার। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় একজন সফল সংগীতশিল্পী হিসেবেই। প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে তাঁর কণ্ঠ আজও সমান পরিচিত ও ভালোবাসার।
পাঁচ দশকের বেশি জীবনের পথ পেরিয়ে আজ ৫৭ বছরে পা দিলেন কনকচাঁপা। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তাঁর দীর্ঘ অবদান এবং অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁকে বাংলা সংগীতের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

