
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলের অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে লন্ডন, এখন শুধু তা কার্যকরের অপেক্ষা।
ব্রিটেনের জাতীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট গত কাল সোমবার তাদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ তথ্য। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড শিগগিরই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন। আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল ইস্যুতে ব্রিটেনের সরকার তার নীতি পরিবর্তন করেছে এবং তার অংশ হিসেবেই জারি করা হচ্ছে এ নিষেধাজ্ঞা।
আর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে বিচ্ছিন্ন করতে কৌশলগত ই-ওয়ান করিডর তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ইসরায়েল এবং এতে আপত্তি ছিল যুক্তরাজ্যের। সম্প্রতি এই প্রকল্পের কাজ আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেল-আবিব এবং তার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লন্ডন। কয়েক দিন আগে এক বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ই-ওয়ান প্রকল্পকে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক’ আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, সেই সঙ্গে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন, যুক্তরাজ্য মনে করে যে নিরাপত্তার নামে ইসরায়েল এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা অপ্রয়োজনীয় এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য হুমকিজনক।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে যে মামলা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, সেই মামলার বাদিপক্ষে যোগ দেওয়ারও চিন্তা-ভাবনা রয়েছে ব্রিটেনের সরকারের।
সোমবার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনার হারের সাম্প্রতিক উল্লম্ফনের নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি বলেছেন, শিগগিরিই এ ব্যাপরে বিস্তৃত পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাজ্যের সরকার।

