
ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা মানে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এর ঘাটতি। এই ধরনের সমস্যা হলে অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। আমাদের শরীরে পটাশিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা ও হার্টের ছন্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাভাবিক অবস্থায়, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা প্রতি লিটারে ৩.৫ থেকে ৫.২ মিলিমোল (সঊয়/খ) এর মধ্যে থাকে।
হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক কী
হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস হল একটি বিরল বংশগত রোগ, যেখানে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে হঠাৎ পেশী দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত হয়। এটি সাধারণত কঠোর ব্যায়াম, উচ্চ-কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার এবং স্ট্রেসের মতো ট্রিগারের কারণে ঘটে। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন।
কম পটাশিয়ামের কারণ:
ঘন ঘন বমি বা ডায়রিয়ার কারণে পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।অনেকসময় মূত্রবর্ধক ঔষধ,স্টেরয়েড ওষুধ সেবনেও পটাশিয়ামের ঘাটতি তৈরি হয়। কিডনি রোগ থাকলে ক্ষতিগ্রস্থ কিডনির পটাশিয়াম সংরক্ষণে অসুবিধা হতে পারে।
কুশিংসিন্ড্রোম,কোননস সিন্ড্রোম ইত্যাদি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির রোগ কিডনির পটাসিয়াম ধরে রাখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে।ব্যায়াম, গরম আবহাওয়ার সময় ভারী ঘাম ত্বকের মাধ্যমে পটাশিয়াম বের হয়ে গিয়ে ঘাটতি তৈরি করে। সঠিক পরিমানে পুষ্টিকর খাবার নাখেলেও ঘাটতি তৈরি হতে পারে। কিভাবে বুঝবেন
পটাশিয়াম অল্প কমছে :
শরীরে মৃদু পটাশিয়াম কম হলে ক্লান্তি এবং দুর্বলতা দেখা দেয়।বেদনাদায়ক পেশী ক্র্যাম্প হয়। বিশেষ করে রাতের দিকে এসমস্যা বেশি দেখা যায়।বুক ধড়ফড় করা মাথা ঘোরানো এবং বুক ব্যাথা হতে পারে। হজমে সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে নষড়ধঃরহম, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটে অস্বস্তি। উচ্চ রক্তচাপ এর সাথে হাইপোক্যলিমিয়া- শরীরে অষফড়ংৎবড়হব নামক হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায় ।
পটাশিয়াম বেশি কমলে :
হার্টের সমস্যা বিশেষ করে এরিদমিয়া, হার্ট ব্লক এবং হার্ট বন্ধ (ঈধৎফরধপ অংুংঃড়ষব) হয়ে যেতে পারে। শ্বাসযন্ত্রের ফেইলিউর অর্থাৎ ভেন্টিলেটর সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। চার হাত পায়ের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পক্ষাঘাত এর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্ত্রের মাংস পেশী দুর্বল হওয়ার কারণে পেট ফুলে যেতে পারে এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়।
রোগ নির্ণয়:
১. রক্ত পরীক্ষা: সেরাম ইলকট্রোলাইট পটাশিয়ামের মাত্রা পরিমাপ করে। ৩.৫ সঊয়/খ এর কম হাইপোক্যালেমিয়া নির্দেশ করে। ৩ সঊয়/খ এর কম পরীক্ষা গুরুতর ঘাটতি নির্দেশ করে।
২. ২৪ ঘন্টায় প্রস্রাবে পটাশিয়াম পরিমাপ নির্ধারণ করে যে কিডনির মাধ্যমে পটাশিয়ামের অত্যধিক বের হচ্ছে কিনা
৩. ইসিজি: কিছু পরিবর্তন দেখে অনুমান করা যায়।
৪. অন্তর্নিহিত ব্যাধি পরীক্ষা করা: ওষুধের ইতিহাস সহ কিডনি এবং হরমোন গ্রন্থির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা ।
চিকিৎসা
খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন: পাকা কলা, খেজুর, আম, জাম, লিচু, ডালিম, আনার ,কাঁঠাল, কিসমিস,সফেদা ,ডাবের পানি, আমড়া,আমলকি বড়ই ,লেবু ,তরমুজ ,বেল ,কমলা, মালটা, তেঁতুল নারিকেল ইত্যাদি খাওয়া।
মুখে পটাশিয়াম ট্যাবলেট বা তরল পটাসিয়াম লবণ যেমন পটাসিয়াম ক্লোরাইড এবং পটাসিয়াম বাইকার্বনেট খেতে হবে। হালকা ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে। ওঠ পটাশিয়াম অর্থাৎ গুরুতর হাইপোক্যালেমিয়ায় হাসপাতালে শিরায় পটাশিয়াম ইনফিউশন প্রয়োজন হয।
কারন খুজে বের করা কেন কমছে পটাশিয়াম। কম পটাশিয়ামের মাত্রার কারণ হতে পারে এমন ওষুধ বন্ধ করা, ডায়রিয়া বা বমি নিয়ন্ত্রণ করা বা কিডনি রোগের চিকিৎসা স্বাভাবিক পটাশিয়াম ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রতিকার
যাদের কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বা ডায়াবেটিস আছে এবং যারা ক্লান্তি, পেশী দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো লক্ষণ অনুভব করছেন তাদের পটাশিয়াম পরীক্ষা করা ও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যাদের মূত্রবর্ধক ঔষধ খেতে হয় তাদের পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের সাথে যে ঔষধ পটাশিয়াম শরীরে ধরে রাখে যেমন ঝঢ়রৎড়হড়ষধপঃড়হব খেতে হয়। যাদের বারবার পটাশিয়াম স্বল্পতা দেখা দেয় তাদেরকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত।
লেখক : এমবিবিএস, এমপিএইচ (এনএসইউ) সিসিডি (বারডেম) , জেনারেল প্রাকটিশনার, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
ডায়াবেটিস চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লং লাইফ হাসপাতাল লিঃ
হটলাইন : ০১৭৩২-৯৩৯৯১৭
Email: [email protected]
আমার বার্তা/ডা. মো. আবু কাওছার (স্বপন)/এমই

