
দেশজুড়ে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের চার বিভাগের ১৭টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এমন পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত বা নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা বা যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা সচল রাখতে তাদের বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের আলোকেই পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে বোর্ডের অবশ্যই বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি রয়েছে। তবে পরীক্ষা স্থগিত বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দেবেন, বোর্ড ঠিক সেটাই প্রতিপালন করবে। চট্টগ্রাম বা অন্য কোনো অঞ্চলে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো খারাপ খবর এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি।
তবে যেকোন পরিস্থিতিতের কথা বিবেচনায় বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আজ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের সংলগ্ন উজান এলাকায় এই অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস ও সোমেশ্বরীসহ প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি কমলেও আগামী কয়েক দিনে তা আবার বাড়তে পারে। তবে আপাতত এই নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমার বার্তা/এমই

