
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৫ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। কেবল গত বছরেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, ডলার দুর্বল হওয়ায় স্বর্ণের দাম উঠেছে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৮.৫২ ডলারে। গত শুক্রবার রুপার দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি সপ্তাহে তা ১০৮ ডলারের বেশি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ইরানকে হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। এতে গত কয়েক মাসে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম একের পর এক রেকর্ড গড়ছে। সাধারণত, স্বর্ণ ও রুপাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন বিনিয়োগকারীরা।
ডলারের সাম্প্রতিক দরপতনের পর জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়। সোমবার এশিয়ার বাজারে তাই লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলার কিছুটা দুর্বল দেখা গেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ট্রেডারদের সঙ্গে ইয়েনের বিনিময় হার নিয়ে যোগাযোগ করেছে- এমন প্রতিবেদনের পর জাপানি মুদ্রায় হঠাৎ উত্থান ঘটে। এর ফলে ডলারের বিপরীতে ইয়েন এক শতাংশের বেশি (১৫৩.৮৯) শক্তিশালী হয়েছে।
বিবিসি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতিও বাজারকে উদ্বিগ্ন করেছে। শনিবার তিনি হুমকি দেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করে তাহলে দেশটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই হুমকির পাশাপাশি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় কার্যক্রম এবং চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার কমাতে পারে-এমন প্রত্যাশার কারণেও মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বেড়েছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ টন স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়েছে। এই পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে অলিম্পিকের তিন থেকে চারটি সুইমিং পুল ভরানো সম্ভব। উত্তোলিত স্বর্ণের বেশির ভাগই তোলা হয় ১৯৫০ সালের পর।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ধারণা করছে, ভূগর্ভস্থ মজুত থেকে আরও প্রায় ৬৪ হাজার টন স্বর্ণ উত্তোলন করা সম্ভব। যদিও আগামী বছরগুলোতে স্বর্ণের সরবরাহ স্থিতিশীল হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আমার বার্তা/জেইচ

