
ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার লাউয়ারগড়ে সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এতে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮.৮৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৭.৩৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে। লাউয়ারগড়ে পানি ৭.৪৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার নিচে এবং দিরাইয়ে ৬.০৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অধিকাংশ পয়েন্টেই পানির উচ্চতা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, রোববার রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও এলাকায় আবারও লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাতভর পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে এবং অনেক পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু দাস বলেন, রাতে হঠাৎ করেই পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়তে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকে যায়। ঘরের জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আবারও ঢলের পানিতে আমাদের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা রকিব উদ্দিন বলেন, সারারাতের বৃষ্টিতে সকাল থেকেই আমাদের চলাচলের রাস্তায় পানি জমে গেছে। পৌরএলাকায় বাসিন্দা হয়েও আমাদের এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়ে। আর এই রাস্তায় যখন পানি জমে তখন শিশু এবং কর্মজীবী মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হয়। দ্রুত এই রাস্তার সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। আর এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছি।
আমার বার্তা/এমই

