
গীতিকার আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ আমাদের বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের মনে করিয়ে দেয়।
আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শহিদুলসহ আরো অনেকে।
মাতৃভাষার জন্য অভুতপূর্ব এ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাঙালি জাতিসত্তার সকল মুক্তি সংগ্রাম ও আন্দোলনের প্রতীক।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অবিস্মরণীয় করে রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার।
এর স্থাপত্যশৈলিতে ফুটে উঠেছে বাঙালি জাতির গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে স্বমহিমায় দাঁড়িযে আছে দৃষ্টিনন্দন এ শহীদ মিনার।
অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন শহীদ মিনারটির রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। এর ৫২ফুট ব্যাসের ভিত্তিমঞ্চ ৫২’র ভাষা আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে। ত্রিস্তম্ভ বিশিষ্ট ৭১ ফুট উচ্চতা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ত্রিস্তম্ভের প্রথমটি বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, দ্বিতীয়টি মাটি-মানুষ, প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং তৃতীয়টি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতান্ত্রিক চেতনার স্বাক্ষর বহন করে।
লক্ষ্য করলে দেখা যায়, শহীদ মিনারের ভিত্তিমঞ্চে রয়েছে আটটি সিঁড়ি। দেশ বিভাগোত্তর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম অভিমুখী আটটি ধারাবাহিক আন্দোলন যথাক্রমে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ এবং ১৯৭১ এর প্রতীক।
২০০৪ সালের ৬ নভেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে, ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন। দৃষ্টিনন্দন এ শহীদ মিনারের স্থপতি শিল্পী রবিউল হোসাইন।
জাবি শিক্ষার্থী ওসমান সরদার বলেন, দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে। এটি আমাদের গর্বের বিষয়। শহীদ মিনারটি আমাদের ভাষা আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, এটি দেশের সর্বোচ্চ মিনার হলেও সারাবছর অবহেলায় পড়ে থাকে। অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের চাপে ময়লার স্তুপে জমে থাকে শহীদ মিনারের আঙ্গিনায়। তাছাড়া, জুতা পড়ে শহীদ মিনারের বেদিতে বসে থাকেন দর্শনার্থীরা। এতে শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমাননা করা হয়।
ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত এ শহীদ মিনার আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় সদা জাগরুক থাকবে। বছরের কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে নয়; বরং প্রতিটি দিনই শহীদ মিনার সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্টিত থাকুক এই প্রত্যাশাই সকলের।
এবি/ওসমান

