
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ব্যবসায়ী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত জামিরুর রহমান ওরফে শেখ তুহিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, বেনামি বিনিয়োগ, কর ফাঁকি, অর্থপাচার এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ তুহিন অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য তার দৃশ্যমান আয় ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তার নামে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পদ ও বিনিয়োগের প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান করা জরুরি।
অভিযোগপত্রে শেখ তুহিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, বিনিয়োগ ও সম্পদ অর্জনের তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিকানা, নিবন্ধন তথ্য, আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব এবং প্রকৃত উপকারভোগী মালিকানা (Beneficial Ownership) যাচাই করা হলে সম্পদের প্রকৃত চিত্র উদঘাটিত হতে পারে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, শেখ তুহিনের নামে বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন এলাকায় জমি, ভবন, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ ক্রয়ের বিপরীতে অর্থের উৎস, দলিল মূল্য এবং প্রকৃত বাজারমূল্যের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য ভূমি রেকর্ড, নামজারি, খতিয়ান ও দলিলপত্র যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দুদকে দাখিল করা আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংগ্রহ করা আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং অন্যান্য আর্থিক নথি পর্যালোচনায় প্রদর্শিত আয়, অর্জিত সম্পদ এবং পরিশোধিত করের মধ্যে অসামঞ্জস্যের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের রেকর্ড পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগে সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তের বিদেশ ভ্রমণ, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, বিদেশে সম্ভাব্য সম্পদ বা বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম অনুসন্ধান করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। এ কারণে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানেরও আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দুদকের কাছে শেখ তুহিনের নামে ও বেনামে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির আর্থিক কার্যক্রম, কর সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান দাবি করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমার বার্তা/এমই

