
বর্তমান আইনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রার্থিতা ও মনোনয়ন-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে এ নৈশভোজের আয়োজন করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “এ বিষয়ে দলগুলোর সঙ্গে আমাদের এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আপনারা জানেন, আমাদের যে আইন হয়েছে, সেই আইনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সুতরাং আমার মনে হয়, বিষয়টি এখন আলোচনা না করলেও চলে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেব।”
ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর মিত্র দলগুলোর সঙ্গে এ বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের আন্দোলনে একসঙ্গে থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন। তিনি এ মিলনকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী আন্দোলনকারীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তার ভাষ্য, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি এবং সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় রাখা, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন।
নৈশভোজে অংশ নেওয়া মিত্র দলগুলোর প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কারাবরণ করেছেন কিংবা গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, দেশ ও জাতি তাদের অবদান চিরদিন স্মরণে রাখবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

