ই-পেপার শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল বনাম ইরান: যুদ্ধের কিনারায় বিশ্ব, কূটনীতির শেষ সুযোগ

সাদিয়া সুলতানা রিমি:
০২ মার্চ ২০২৬, ১৪:১৬

মধ্যপ্রাচ্য আবারও এমন এক অগ্নিগর্ভ বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যা শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয় বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভবিষ্যৎকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ হামলার জবাবে ইরান যে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে এ সংঘাত কেবল সামরিক নয়, এটি শক্তির ভারসাম্য, আঞ্চলিক আধিপত্য এবং রাজনৈতিক বার্তার লড়াই।

এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বহু বছর ধরে চলা অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা, প্রক্সি যুদ্ধ, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে জমাট বাস্তবতা, সেটিই আজ বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে। তাই প্রশ্ন হচ্ছে এ হামলা কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, নাকি আরও গভীর অস্থিতিশীলতার সূচনা করবে?

প্রথমত, সামরিক হামলার রাজনৈতিক যুক্তি যতই তুলে ধরা হোক, বাস্তবতা হলো যুদ্ধ কখনোই কেবল লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে থেমে থাকে না। এর ঢেউ আঘাত হানে সীমান্তের বাইরে, অর্থনীতিতে, জ্বালানি বাজারে, শরণার্থী সংকটে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোয়। মধ্যপ্রাচ্য এমনিতেই বহু সংঘাতের ভার বহন করছে; সেখানে নতুন করে সরাসরি রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে বহুগুণ জটিল করে তুলবে।

ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি “অস্তিত্বগত নিরাপত্তা”র প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ভবিষ্যতে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও অনেকাংশে সেই নিরাপত্তা বয়ানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়: সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কায় প্রতিরোধমূলক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ এবং কতটা কার্যকর?

কারণ ইতিহাস বলে, প্রতিরোধমূলক হামলা প্রায়ই প্রতিরোধের বদলে প্রতিশোধের চক্র তৈরি করে। ইরানের পাল্টা হামলা এবং অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধিই তার প্রমাণ। এ ধরনের সংঘাতে কোনো পক্ষই দ্রুত ও স্পষ্ট বিজয় অর্জন করতে পারে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানকেই অপরিহার্য করে তোলে।

দ্বিতীয়ত, এ সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আঞ্চলিক বিস্তার। উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদি প্রক্সি গোষ্ঠী, মিত্র রাষ্ট্র বা সামরিক জোটগুলো সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তবে এটি সহজেই পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তা সংকট এবং বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এসবের প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি পড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলে, যেখানে আমদানি-নির্ভর জ্বালানি অর্থনীতির বড় অংশ, সেখানে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা প্রবল। অর্থাৎ এই যুদ্ধ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর মূল্য পরিশোধ করবে সাধারণ মানুষ।

তৃতীয়ত, মানবিক দিকটি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। আধুনিক যুদ্ধের ভাষায় “কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু” শব্দটি ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে প্রতিটি বিস্ফোরণের পেছনে থাকে মানুষের জীবন, পরিবার, ভবিষ্যৎ। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হয়, তত বেশি বাড়ে বেসামরিক হতাহত, অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানসিক ট্রমা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন যে বারবার সংযমের কথা বলে, তার মূল কারণই এই বাস্তবতা।

চতুর্থত, এ সংঘাত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও পরীক্ষা। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতি এসব কাঠামো তৈরি হয়েছিল বড় ধরনের যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য। কিন্তু যখন শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো সরাসরি সামরিক পথে এগোয়, তখন প্রশ্ন ওঠে বিশ্ব কি আবার শক্তির রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে? যদি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বারবার ব্যর্থ হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য রাষ্ট্রগুলোর জন্যও সামরিক পথ বেছে নেওয়া সহজ হয়ে উঠবে।

এখানে কূটনীতির ভূমিকা তাই অপরিহার্য। যুদ্ধ শুরু করা তুলনামূলক সহজ; কিন্তু যুদ্ধ থামানোই সবচেয়ে কঠিন। আলোচনার টেবিলই একমাত্র জায়গা, যেখানে নিরাপত্তা, আস্থা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব। মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

তবে কূটনীতির সফলতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। যদি পক্ষগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা ক্ষমতার প্রতীকী প্রদর্শনকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। কিন্তু যদি বাস্তবতা স্বীকার করে পারস্পরিক নিরাপত্তার কাঠামো তৈরির দিকে এগোনো যায়, তবে এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।

সবশেষে, এ সংঘাত আমাদের একটি মৌলিক সত্য আবার মনে করিয়ে দেয় নিরাপত্তা কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে অর্জিত হয় না; বরং আস্থা, সংলাপ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান দেয় না; এটি কেবল নতুন সমস্যার জন্ম দেয়।

আজ বিশ্ব এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে সামরিক প্রতিযোগিতা ও শক্তির রাজনীতি, অন্যদিকে কূটনীতি ও সংযমের পথ। কোন পথ বেছে নেওয়া হবে, সেটিই নির্ধারণ করবে আগামী দশকের আন্তর্জাতিক বাস্তবতা।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা যদি বড় যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বিশ্বব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেবে। আর যদি কূটনীতি জয়ী হয়, তবে এটি প্রমাণ করবে সংঘাত যত গভীরই হোক, আলোচনার পথ কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

এই কারণেই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো যুদ্ধ নয়, সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ শেষ পর্যন্ত ইতিহাস দেখায় যে সংঘাতের সমাধান আলোচনায় হয়, সেটিই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি গড়ে দেয়।

লেখক : শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আমার বার্তা/সাদিয়া সুলতানা রিমি/এমই

বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা—বেকারত্ব

বাংলাদেশের অর্থনীতি সত্যিকার অর্থে কতটা উন্নয়নশীল—গত এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬–৭ শতাংশ হয়েছে কিনা,

রাষ্ট্র পরিচালনার ২ চ্যালেঞ্জ: অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি

বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে যে বিষয়টি সর্বাগ্রে প্রতীয়মান

হ্যাপি আর্থ ডে: আমাদের গ্রহ, আমাদের দায়িত্ব

প্রতি বছর ২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় Earth Day—একটি দিন, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ক্ষতিকর

বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এই যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলায় দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে

২৭ সালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের গুডবাই জানানো হবে: শাহজাহান চৌধুরী

শেষ ম্যাচ হেরে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ ভাগাভাগি করল বাংলাদেশ

ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ ভারতের: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার: ৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে

কৃষকের মর্যাদা বাড়লেই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী

‘আ.লীগের শেষ ১০ বছরে কমপক্ষে ৫০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে’

বিএনপি সরকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে: আনু মুহাম্মদ

নবদিগন্তের সূচনা, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিমান বহরে যুক্ত হবে ৪৭টি উড়োজাহাজ

স্বৈরাচারী আচরণ করলে বিএনপির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম

ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে চান: আইনমন্ত্রী

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি: মির্জা ফখরুল

বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণ অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী: ফাহমিদা খাতুন

গণভোটের রায় অস্বীকার করে দেশকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে, জানালেন ইরানি কমান্ডার

যেদিকে তাকাই সেদিকেই অনিয়ম-দুর্নীতি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দেখার ভার সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিলের

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা