ই-পেপার শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

উৎপাদন বাড়লেই উন্নয়ন নয়: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে লজিস্টিকের অদৃশ্য সংকট

সাকিফ শামীম:
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৫

বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও উত্তরণের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে। আমরা ২০৪১ সালের উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির কথা বলছি। কিন্তু একটি মৌলিক বাস্তবতা প্রায়ই চোখের আড়ালে থাকে—অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো লজিস্টিক ব্যবস্থা। উৎপাদন যতই বাড়ুক, যদি পণ্য দ্রুত, কম খরচে এবং দক্ষতার সঙ্গে বাজারে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে সেই প্রবৃদ্ধি টেকসই হয় না।

আমাদের পণ্য উৎপাদনই শেষ কথা নয়, পণ্য সময়মতো ও কম খরচে বাজারে পৌঁছানোই আসল চ্যালেঞ্জ। এই জায়গাটিই হলো লজিস্টিক খাত। কারখানা থেকে গুদাম, গুদাম থেকে বন্দর, বন্দর থেকে বিদেশি ক্রেতা—এই পুরো যাত্রাপথ যত দক্ষ হবে, ব্যবসা তত লাভজনক হবে। তাই লজিস্টিক এখন আর শুধু পরিবহন খাত নয়; এটি সরাসরি ব্যবসার মুনাফা, প্রতিযোগিতা ও বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িত।

সরকার প্রণীত জাতীয় লজিস্টিকস নীতি–২০২৫ এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবে পরিণত করা। কিন্তু একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত—এই নীতি বাস্তবে আমাদের খরচ কমাবে কি? বন্দরের জট কমবে কি? পণ্য দ্রুত ছাড় হবে কি?

বর্তমানে বাংলাদেশে লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৫–২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ বা তার বেশি। এই উচ্চ খরচ সরাসরি শিল্প উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলে। বিদেশে রপ্তানি করতে গেলে রপ্তানিকারকরা শুধু উৎপাদনের খরচ নয়, বন্দরের জট, কন্টেইনার সংকট, কাস্টমস বিলম্ব ও পরিবহন অদক্ষতার কারণে অতিরিক্ত খরচ বহন করছেন। উন্নত দেশগুলোতে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির মাত্র ৮–১০ শতাংশ, যা স্পষ্টভাবে আমাদের খরচ কমানোর প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কয়েকটি খাত রয়েছে যেখানে লজিস্টিক উন্নয়ন দ্রুত অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমত, তৈরি পোশাক ও রপ্তানি শিল্প। দ্রুত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, কম টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম এবং নির্ভরযোগ্য শিপমেন্ট নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে। দ্বিতীয়ত, কৃষিপণ্য ও খাদ্য খাত। আধুনিক কোল্ড চেইন ও গুদাম ব্যবস্থাপনা চালু হলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অপচয় কমবে। তৃতীয়ত, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ব্যবস্থা—যেখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পরিবহন ও দ্রুত বিতরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চতুর্থত, ই-কমার্স ও খুচরা বাজার—যেখানে দ্রুত ডেলিভারি ব্যবসার মূল প্রতিযোগিতা নির্ধারণ করে। পঞ্চমত, আমদানি-নির্ভর শিল্পখাত, যেখানে কাঁচামাল দ্রুত বন্দরে ছাড় না হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়।

বেসরকারিকরণ নিয়ে অনেকের মনে ভুল ধারণা রয়েছে। এখানে সম্পদ বিক্রির প্রশ্ন নয়; বরং দক্ষতা আনার প্রশ্ন। উদাহরণস্বরূপ, ডেনমার্কভিত্তিক APM Terminals বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্দর পরিচালনায় প্রযুক্তি ও কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করে সময় ও খরচ কমিয়েছে। বাংলাদেশেও যদি বন্দর, রেল ফ্রেইট, লজিস্টিক পার্ক ও গুদাম ব্যবস্থাপনায় পারফরম্যান্স-ভিত্তিক বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব।

লজিস্টিক খাত উন্নত করার জন্য জটিল কিছু নয়—কয়েকটি বাস্তবমুখী পদক্ষেপই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রথমত, কাস্টমস ও ডকুমেন্টেশন পুরোপুরি ডিজিটাল করা দরকার, যাতে ব্যবসায়ীকে বারবার অফিসে যেতে না হয়। দ্বিতীয়ত, বন্দর ও রেল ফ্রেইটে সময়সীমা নির্ধারণ করে সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করা উচিত। তৃতীয়ত, জেলা ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক আধুনিক গুদাম ও লজিস্টিক পার্ক স্থাপন করা গেলে ট্রাকের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমবে। চতুর্থত, সড়ক-রেল-নৌপথের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে, যাতে মাল পরিবহনে একটি মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। পঞ্চমত, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (PPP) বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীল নীতিমালা ও দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লজিস্টিক খাতকে আমরা যেন অবকাঠামোর সীমায় আটকে না রাখি। এটি সরাসরি ব্যবসা সহজ করার (Ease of Doing Business) একটি বড় উপাদান। খরচ কমলে পণ্যের দাম কমবে, রপ্তানি বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত হবে।

আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশে লজিস্টিক খাতকে সঠিকভাবে সংস্কার করা গেলে এটি পরবর্তী দশকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। এখন প্রয়োজন নীতিগত দৃঢ়তা, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ। লজিস্টিক খাতের আধুনিকায়ন আমাদের অর্থনীতির গতি নির্ধারণ করবে।

লেখক : ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ।

আমার বার্তা/সাকিফ শামীম/এমই

বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা—বেকারত্ব

বাংলাদেশের অর্থনীতি সত্যিকার অর্থে কতটা উন্নয়নশীল—গত এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬–৭ শতাংশ হয়েছে কিনা,

রাষ্ট্র পরিচালনার ২ চ্যালেঞ্জ: অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি

বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে যে বিষয়টি সর্বাগ্রে প্রতীয়মান

হ্যাপি আর্থ ডে: আমাদের গ্রহ, আমাদের দায়িত্ব

প্রতি বছর ২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় Earth Day—একটি দিন, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ক্ষতিকর

বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এই যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলায় দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে

২৭ সালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের গুডবাই জানানো হবে: শাহজাহান চৌধুরী

শেষ ম্যাচ হেরে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ ভাগাভাগি করল বাংলাদেশ

ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ ভারতের: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার: ৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে

কৃষকের মর্যাদা বাড়লেই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী

‘আ.লীগের শেষ ১০ বছরে কমপক্ষে ৫০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে’

বিএনপি সরকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে: আনু মুহাম্মদ

নবদিগন্তের সূচনা, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিমান বহরে যুক্ত হবে ৪৭টি উড়োজাহাজ

স্বৈরাচারী আচরণ করলে বিএনপির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম

ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে চান: আইনমন্ত্রী

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি: মির্জা ফখরুল

বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণ অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী: ফাহমিদা খাতুন

গণভোটের রায় অস্বীকার করে দেশকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে, জানালেন ইরানি কমান্ডার

যেদিকে তাকাই সেদিকেই অনিয়ম-দুর্নীতি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দেখার ভার সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিলের

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা