ই-পেপার শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ক্ষমতার পালাবদল হলেও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি অপরিবর্তিত

জামিল হোসেন
০২ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৫৮

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার পালাবদল বহুবার হয়েছে। এক সরকার গিয়েছে, আরেক সরকার এসেছে। ক্ষমতার এই পরিবর্তনে সমাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে, নীতিমালা বদলেছে, প্রশাসনের ধরনেও পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে কিছু নেতিবাচক দিক রয়ে গেছে আগের মতোই, যার মধ্যে চাঁদাবাজি সংস্কৃতি অন্যতম। চাঁদাবাজি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। চাঁদাবাজি একটি অপরাধমূলক কার্যকলাপ, যেখানে কোন ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে। যদিও সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন এসেছে, তবুও চাঁদাবাজি সংস্কৃতি কমেনি, বরং এটি বিভিন্ন রূপে অব্যাহত রয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি মূলত স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে শুরু হয়। ১৯৭১ সালের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি ও অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান ঘটে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সংঘাতের সময় চাঁদাবাজি একটি সংগঠিত অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক নেতারা প্রায়শই স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সাথে জোট বেঁধে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেন, এবং এর বিনিময়ে এসব গোষ্ঠীকে চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হতো।

রাজনৈতিক সংযোগ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতারা চাঁদাবাজি করে আদায়কৃত অর্থ দলীয় তহবিলে জমা দেন বা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে অপরাধী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়, যা তাদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ দেয়। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে চাঁদাবাজি সংস্কৃতি এতটা বিস্তৃত হতো না।

ক্ষমতার পরিবর্তন ও চাঁদাবাজি: বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও চাঁদাবাজি সংস্কৃতি কমেনি। এর প্রধান কারণ হল রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসার পর তাদের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ রক্ষা করে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে পূর্ববর্তী সরকারের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি কিছুটা কমে, কিন্তু নতুন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক গোষ্ঠী একই পদ্ধতি অবলম্বন করে। ফলে চাঁদাবাজি সংস্কৃতি চক্রাকারে চলতে থাকে।

চাঁদাবাজির প্রভাব: চাঁদাবাজি সংস্কৃতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় বাধা। এটি শুধু অপরাধ নয়, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধক। চাঁদাবাজি সংস্কৃতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে নানাভাবে:

ব্যবসায়ীদের উপর চাপ: ব্যবসায়ীরা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হন, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই চাঁদার টাকা পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হয়, যার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের বেশি দাম দিতে হয়।

বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট: বিদেশি বা স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপ দেখে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পান। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ কমে যায়, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি : ছোট ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় শিকার। তাদের আয় কম, কিন্তু চাঁদা দিতে না পারলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতি: চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত টাকা রাষ্ট্রের খাতে যায় না, বরং তা অপরাধী গোষ্ঠীর পকেটে চলে যায়। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যায়।

চাঁদাবাজি রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

নিচে তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হলো

  • চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
  • চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা
  • ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা প্রদান
  • ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজদের হুমকি থেকে রক্ষা করা।
  • চাঁদাবাজি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করা।
  • চাঁদাবাজির কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
  • প্রযুক্তির ব্যবহার: সিসি ক্যামেরা, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে চাঁদাবাজদের শনাক্ত করা।

সমাধানের উপায়: চাঁদাবাজি সংস্কৃতি রোধ করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চাঁদাবাজি সংস্কৃতি একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও এই চাঁদাবাজি সংস্কৃতি রোধ করা সম্ভব হয়না, কারণ এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে গভীরভাবে জড়িত।

লেখক: জামিল হোসেন, অনলাইন নিউজ এডিটর, দৈনিক আমার বার্তা, ঢাকা।

মরক্কোর আমাজিঘ নারী: প্রাচীন হস্তশিল্পের মানব জাদুঘর ও ঐতিহ্যের ধারক

মরক্কোর গ্রাম, পাহাড়ি জনপদ, মরুভূমি অঞ্চল ও এর আশেপাশে আমাজিঘ সম্প্রদায়ের নারীরা বসবাস করেন। তারা

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: ইতিহাস ও ভূগোলের কঠিন বাস্তবতা

আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করেছে। এই আক্রমণের ফলে কি ইরান পরাজিত হবে? স্পষ্ট

দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়বো, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়বো

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা বাংলাদেশ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, বিস্তীর্ণ

এসএমই ও স্টার্টআপ বিপ্লব: এফবিসিসিআই-ই হবে প্রবৃদ্ধির নতুন ইঞ্জিন

বাংলাদেশ আজ এক অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা ছাড়িয়ে ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার বাতাস আজ সহনীয়, বাড়ছে দেশের তাপমাত্রা

ইরাকে হামলায় ফরাসি সেনা নিহত, আহত কয়েকজন: ম্যাক্রোঁ

‘ইরান আগের মতো নেই’: নেতানিয়াহুর দাবি

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন শনিবার

ইরানে স্কুলে হামলা: ট্রাম্পের জবাবদিহিতা চান মার্কিন সিনেটর

ব্যাটিং পজিশনে আমার মতো ত্যাগ স্বীকার করেনি আর কেউ: মাহমুদউল্লাহ

দুপুরের মধ্যে দেশের ৮ অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা

বউ বরণ নয় ৯ মরদেহ দাফনের অপেক্ষায় স্বজনেরা

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত: ঘরে-বাইরে চাপে ট্রাম্প

দেশের বাজারে আরেক দফা কমলো সোনার দাম

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে কেমন হবে বাংলাদেশের একাদশ?

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

বাংলাদেশকে ডিজেল দেওয়ার অনুরোধ বিবেচনা করছে ভারত

রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

১৩ মার্চ ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা

কসবায় অবৈধ মাটি কাটায় ১ লাখ জরিমানা

বাঞ্ছারামপুরে ভেজাল গুড় কারখানায় ৪ লাখ জরিমানা

প্রথম অধিবেশনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমুদ্রপথে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী

বাগেরহাটে বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১৩ নিহত জন