ই-পেপার বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

গণতন্ত্র কি তাহলে বিদায়ের পথে!

রহমান মৃধা:
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:১৬

যখন গণতন্ত্রের ভাঙ্গন শুরু হতে চলেছে পশ্চিমা দেশগুলোতে, ঠিক তেমন একটি সময় বাংলাদেশের মতো অনেক দেশ গণতন্ত্রের স্বাদ পেতে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিলীন করতে ডিজিটাল পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে আবেগ ভরা মতামত পোষণ করে চলেছে।

সত্যি হলেও দুঃখের বিষয় যে ডিজিটাল ভালোবাসা যেমন আবেগ এবং বিবেক ছাড়া অকেজো ঠিক গণতন্ত্রের চর্চাও আবেগ এবং বিবেক ছাড়া মূল্যহীন। তবে সুইডেনে ডিজিটাল পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে এরা ডিজিটাল ইনডেক্স ফোরামের মাধ্যমে পুরো তরুণ প্রজন্মের গণতন্ত্র এবং রাজনীতিবিদদের উপর গভীর হতাশার বাণী প্রকাশ করেছে। নতুন প্রজন্ম বর্তমান প্রেক্ষাপটের চরম অবনতির জন্য বরং গণতন্ত্র এবং রাজনীতিকে দায়ী করেছে। প্রতিবেদনটি গতকাল গণমাধ্যমসহ দেশের টিভি চ্যানেলের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক একই খবরে একটি গ্রেনেড-বোমা সুইডেনের উপশালা শহরের গ্রেনবি নামের একটি গ্রামে গতকাল কে বা কারা সেট করে রেখে সম্ভবত পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এটা টেরোর অ্যাটাক ঘটানোর চেষ্টা কিনা জানিনা তবে পুরো গ্রামসহ সারাদেশে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়েছে। পবিত্র কোরআন পোড়ানো, তুর্কি প্রেসিডেন্টের স্টাচু উপর-নীচু করে ঝুলানো, গণহত্যা , ডাকাতি, গোলাগুলিসহ ভাঙচুর ইদানীং গণতন্ত্রকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে। রাজনীতিবিদদের দক্ষতা প্রশ্নের মুখোমুখি, ন্যাটোজোটে সুইডেনের পদার্পনসহ রাশিয়ার হুমকি সুইডেনকে নিয়ে যা তরুণ প্রজন্মকে বেশ উদ্বিগ্নে ফেলেছে। তারপর বেকার সমস্যা এবং সুদের হার বৃদ্ধি সুইডিশ জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে, সব মিলে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদ ও গণতন্ত্রের প্রতি এই অনীহা প্রকাশ।

আজ সকালে আমার মেয়ের সঙ্গে একটি কাজে শহরে যেতে ট্রেন স্টেশন এসে দেখি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সিডিউল অনুযায়ী যে ট্রেনটি যাবার কথা সেটা ক্যান্সেল করেছে, পরের ট্রেন বিশ মিনিট পরে আসবে। এর ফলে আমাদের মিটিংয়ের যে সময়টি ধার্য করা রয়েছে সেটা সময়মতো ধরতে পারবো না, কী করা? জেসিকা দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে ট্যাক্সি কল করলে ট্যাক্সি এসে গেল। সুইডেনে ইদানীং কয়েক বছর ধরে ট্রেন সিস্টেম সঠিকভাবে সার্ভিস দিতে পারছে না নানা কারণে, প্রচন্ড শীত বা গরম অথবা যান্ত্রিক সমস্যা যার ফলে যাত্রীরা এটার জন্য বড্ড বিরক্তি পোষণ করে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। এখানে নিয়ম রয়েছে যদি বিশ মিনিটের বেশি যানবাহন লেট করে তবে ট্যাক্সি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ঝামেলাও আছে, যেমন কোন ট্রেনে, কখন, কীভাবে এবং কোথায় যাত্রী যাবে সহ নানা ধরনের ফরমাল রুটিন এবং ক্রাইটেরিয়া যদি শতভাগ ফুলফিল দেখানো যায় তবে এ ধরনের সুযোগ ব্যবহার করা যেতে পারে। ঝামেলার কারণে অনেকে এসব এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করে। যাইহোক পথে যেতে বর্তমান সময়ের উপর জেসিকার সঙ্গে একটু কথা বললাম তার মতামতটি জানতে। মেয়ে আমার মতো বেশি কথা বলে না তবুও জানতে চাইলাম তার মতামত সম্পর্কে। সে শুধু বললো, বাবা চারদিকে যুদ্ধ, তারপর গোটা বিশ্বজুড়ে মানুষে মানুষে ঝগড়া, গণমাধ্যম সব সময় তুলে ধরে বিশ্বের নানা সমস্যা, এসব ঘটনার সঙ্গে নতুন প্রজন্ম জড়িত না অথচ তাদের নজরে এসব ফেলতে গণমাধ্যম তৎপর। কারণ তারা জানে নতুন প্রজন্ম বেশিরভাগ সময় টেলিফোন, টেলিভিশন, বা গণমাধ্যমে বেশি সময় দেয়, যার ফলে যেকোনোভাবে তাদের চেষ্টা প্রভাবটা যেনো তরুণ সমাজে পড়ে এবং এতে করে এই তরুণ সমাজটা দিনে দিনে হতাশায় ভুগছে। ফলস্বরুপ নতুন প্রজন্ম বড়দের তথা সমাজের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশ্বস্ততা হারাচ্ছে সাথে গণতন্ত্রকে প্রশ্নের সম্মুখীন করছে। মেয়ের কথাগুলো মনে ধরলো, তাই ট্রেনে ফিরতে পথে ভাবলাম বসেই তো আছি কথাগুলো লিখে ফেলি। বলা তো যায় না কখন কী হয়!

সবকিছুর পরও কেন যেন মনে হচ্ছে গণতন্ত্রের বিদায়ের সময় খুব কাছে, কারণ ক্যাপিটালিজম নতুন প্রজন্মের মনের দরজায় নক করতে শুরু করেছে। জানিনা কী অবস্থা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের? তারাও কি এদের মতো ভাবছে, খুব জানতে ইচ্ছে করলো, ঠিক তখনই যোগাযোগ করলাম ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থী গোলাম সারোয়ার সাইমুমের সাথে। তার মতে “গণতন্ত্র এবং বর্তমান বাংলাদেশ অনেকটা ফাঁপা কলসির মত। প্রথম কথা, আমি নিজেই বাংলাদেশের মতো একটি দেশে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না। কারণ নিজের দেশের মানুষকে মূর্খ বলে গালি দিয়ে নিজেকে মূর্খ প্রমাণ করতে চাই না। তবে, ধরেন কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে ১০০ জন লোককে ভোট প্রয়োগ করতে বলা হলো। এর মাঝে যদি অধিকাংশ ব্যক্তি বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন তাহলে সিদ্ধান্ত যা আসবে সেটা যে সঠিক আসবে সে সম্পর্কে আমরা আত্মবিশ্বাসী হতে পারি। অপরপক্ষে, অধিকাংশই যদি জ্ঞান না রাখে বিষয়টায় তাহলে অধিকাংশের মতামত অনুসরণ করলে ভুল সিদ্ধান্তও আসতে পারে। তাই কোথায় গণতন্ত্র প্রয়োগ করতে হবে সেটাও ভাবতে হবে। আমাদের সমাজে যেখানে নৈতিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এমনকি পারিবারিক শিক্ষা পর্যন্তও গায়েব হতে চলেছে, সেখানে গণতন্ত্রের ফলাফল কী রকম আসবে? এজন্যে আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না। আমরা হোস্টেলে এক রুমে চারজন থাকি, আমি পড়াশুনা করছি, আমার পরীক্ষা খারাপ হলে আমার লেখাপড়া বন্ধ হতে পারে, স্কলারশিপ চলে যেতে পারে। আমার রুমের অন্য তিন জন গণতান্ত্রিক উপায়ে সিদ্ধান্ত নিল আজ তারা গান শুনবে, নাচবে, আড্ডা দিবে। আমি কিছু বলতে পারবো না কারণ হতে পারে আমি রুমের সবথেকে ছোট বা বাকি সবাই একজোট। তারা জিতলো তবে এটা কি অ্যারিস্টোটলের মতামতের মতো মূর্খের এবং অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা নয়?

আমরা মানুষ, আমরা সৃষ্টির সেরা জীব। আমরা সমস্যায় পড়ি এবং সমাধান করি। আমরা যদি সঠিক শিক্ষা, সঠিক জ্ঞান প্রয়োগ করি, সমস্যার বিশ্লেষণ করি, যদি প্রায় সব ধরনের ফলাফল নিয়ে ভেবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেই তাহলে একটা বিষয় সমাধান করতে একজন মানুষই যথেষ্ট। শেষে ওই একজন মানুষ বাকি সবাইকে বলতে পারে যে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ সমস্ত বিষয় বিশ্লেষণ করে। এটা করলে এই ফলাফল আসতে পারে, এটা করলে জনগণ এইভাবে ভুগবে। এখন হয়তো লোভনীয়, আরামের বা সুবিধার মনে হচ্ছে কিন্তু এটা পরবর্তীতে আমাদের জাতিকে এইভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে তাই এইভাবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বা নেইনি। এখন আপনাদের সকলের মতামত দিন। এই প্রক্রিয়ার ফলে উপস্থিত সকলের বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আসতে পারে এবং তখন মতামত দিলে সঠিক সিদ্ধান্তও আসতে পারে। তাছাড়া ঐযে ঢাকা শহরের রাস্তা ঘাটের মতো হবে সব। দীর্ঘ তিন বছর ভোগান্তির পর একটা রাস্তা উদ্বোধন হয়, পরের দিন এসে কেউ পানির লাইন, কেউ গ্যাসের লাইন খুঁড়তে শুরু করে, আবার ধুলাবালি, আবার একই কাহিনী। ওটা সিটি করপোরেশনের কাজ, এটা ওয়াশার কাজ, এ সম্পর্কে আমরা অবহিত নই, আমাদের কাছে অফিসিয়াল দিকনির্দেশনা বা আদেশ বা লিখিত অভিযোগ আসলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো বলবে।” — নতুন প্রজন্মের ধারণা, গণতন্ত্র হচ্ছে মূর্খ এবং অযোগ্যদের জীবিকা নির্বাহের একটি মাধ্যম মাত্র। এমন হতাশার বার্তা যা সুইডেনের তরুণ প্রজন্মের থেকে ব্যতিক্রম বলে মনে হলো না। এত সব কিছুর পর কেন যেন মনে হচ্ছে গণতন্ত্র বিলুপ্তির পথে।

লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

আমার বার্তা/রহমান মৃধা/এমই

ইরানের প্রতিশোধ; বড় যুদ্ধের ঝুঁকিতে পৃথিবী

অবশেষে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা করেছে ইসরাইলে। বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের পাশাপাশি এসব হামলা ইরাক, ইয়েমেন ও

তিস্তার পানি সমস্যা একটি মানবিক সমস্যা

তিস্তা নদী ভারত ও বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত স্পর্শ- কাতর বিষয়৷ নতুন তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি ভারত

মিয়ানমারের সাথে সংঘাত-পরবর্তী সম্পর্ক উন্নয়ন

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের চলমান সংকটের প্রভাব অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

আমরা কতটুকু বাঙালিয়ানা হতে পেরেছি

শুভ নববর্ষ। বাংলা ১৪৩১। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি আদৌ কী সর্বজনীন হতে পেরেছে ? বাংলাদেশের
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দ্রুত সময়ের মধ্যে মুজিবনগরে স্থলবন্দর হবে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী

নৌকা যেখানে আছে জনগণ সেখানে নেই: আমির খসরু

ঝালকাঠিতে প্রাইভেট-ট্রাক-অটোর ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১২

বিশ্বকে বাঁচাতে সময় মাত্র দুই বছর

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিপাকে তৃণমূল

ইরানের প্রতিশোধ; বড় যুদ্ধের ঝুঁকিতে পৃথিবী

কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন দ্রুত পাস করতে হাইকোর্টের রায়

নির্বাচনী দ্বন্দ্বে চকরিয়ায় দুজনকে কুপিয়ে হত্যা

মাদক কারবারে বদির দুই ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে সিআইডি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি রুশ সেনা

ইলিয়াস আলীসহ সব গুম রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে: রিজভী

নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

হিজবুল্লাহ বা ইরান কেউই বর্তমানে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়: ইইউ

৮ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

কৃষি গুচ্ছের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ২২ এপ্রিল থেকে আবেদন

আমিরাতে ৭৫ বছরের ইতিহাসে বৃষ্টির রেকর্ড, নিহত ২

জিডিপি কমার পূর্বাভাসে চিন্তার কিছু নেই: অর্থমন্ত্রী

জাহাজে দেশে ফিরবেন ২১ নাবিক, বাকি দুজন বিমানে

এমবাপের জোড়া গোলে বার্সাকে কাঁদিয়ে সেমিতে পিএসজি

গরমে সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খাবেন