
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার একটি পর্যটন মেগা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদে জামালপুর-২ আসনের সদস্য সরকারি দলের এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পর্যটন মেগা পরিকল্পনার আওতায় ২০০ সালের মধ্যে ৫৫.৭ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণ এবং ২.১৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ, স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা এবং নীতিগত সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৬-২০৪০ মেয়াদি ‘ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে খাতটির জন্য একটি সুস্পষ্ট বিনিয়োগ রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যটন নীতি হালনাগাদ করে খাতটিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থায়ন সুবিধা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পর্যটন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। ভবিষ্যতে এ সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।
পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জন ট্যুর অপারেটর, ১ হাজার ২১৫ জন ট্যুর গাইড এবং ১ হাজার ৫২৭ জন স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৮৫ জনকে পর্যটন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ প্রণয়ন করেছে, যার লক্ষ্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।
বর্তমানে পর্যটন খাতে প্রায় ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কর্মরত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৭২ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেকসই পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কুয়াকাটা ও উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং ইকো-ট্যুরিজম বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে নারী-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংস্কৃতি প্রসারে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব, ঐতিহ্য ও হস্তশিল্প তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা গ্রামীণ পর্যটন বিকাশে সহায়ক হবে।
বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)’র মাধ্যমে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং এলাকায় এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন-এর মালিকানাধীন কক্সবাজারের জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আমার বার্তা/এমই

