
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চীনের অর্থনীতিতেও। ফলে দেশটি নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরু থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্যও প্রভাবিত হয়েছে।
সরকারি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময়ে দেশটির প্রবৃদ্ধি বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের জুনে দেশটির রপ্তানি ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
মার্চ মাসে চীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। এটি ১৯৯১ সালের পর দেশটির সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা।
বুধবার প্রকাশিত পৃথক তথ্যে বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোও উঠে এসেছে। এতে আবাসন বাজারের দীর্ঘস্থায়ী মন্দা এবং দুর্বল ভোক্তা ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে নতুন আবাসনের দাম আরও কমেছে। তবে খুচরা বিক্রি বেড়েছে।
বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম আইজের বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইপ বিবিসিকে বলেন, চীনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চ মূল্যের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ বাজারে চাহিদা এতটাই কমে গেছে যে উৎপাদন ব্যয়ের বাড়তি চাপ ক্রেতারা পুরোপুরি সামাল দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তত কঠিন হয়ে উঠবে।
এদিকে মঙ্গলবার প্রকাশিত জুন মাসের শুল্কসংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য সেমিকন্ডাক্টরের বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চীনের প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানি গতি পেয়েছে।
চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেশটির রপ্তানিকেও উল্লেখযোগ্যভাবে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো মাসিক গাড়ি রপ্তানি ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি

