
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি দাবি- পাকিস্তান ও চীন না-কি ইসরায়েলকে পারমাণবিক হামলার সতর্কতা দিয়েছিল।
চীনা দুই বিশ্লেষক ভিক্টর ঝিকাই গাও এবং চেঙ্ক উইগুরের বক্তব্য ঘিরে এই আলোচনা সামনে আসে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা দাবি করেছেন- ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পারমাণবিক পর্যায়ে পৌঁছালে বেইজিং ও ইসলামাবাদ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে গাওকে বলতে শোনা যায়, ইসরায়েল যদি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে এটি আর একটি দেশ হিসেবে টিকে থাকবে না।’
তিনি ইসরায়েলি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এমন সিদ্ধান্ত দেশটির পতন ডেকে আনতে পারে।
অন্যদিকে, চেঙ্ক উইগুর আরেকটি ভিডিও ক্লিপে বলেন, ‘চীন ও পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে- ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালায়, তবে তারাও পাল্টা একই ধরনের জবাব দেবে।’
তিনি আরও সতর্ক করেন, এতে বিশ্ব একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক মহাপ্রলয়ের দিকে এগোতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- চীন বা পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো হুমকি দেয়নি। এই মন্তব্যগুলো এসেছে স্বাধীন বিশ্লেষকদের কাছ থেকে, যারা নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন না।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় ইরানের সঙ্গে গতকাল বুধবার (৮এপ্রিল) দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলও সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করে, তবে শর্ত হিসেবে ইরানকে সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ করা এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানানো হয়। ইসরায়েল আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় কাজ চালিয়ে যাবে।
লেবাননে অভিযান অব্যাহত
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের মতে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
গতকাল ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি কয়েক সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এলেও, পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তাহলে এটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকেও জড়িয়ে ফেলতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থাকা সত্ত্বেও তারা উভয়েই একমত- পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার এই সংঘাতকে এক অনিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

