
সাভারের আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, নাগরিক সেবায় দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সোমবার (৮ জুন) সকালে তিনি কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, নাগরিক সেবার মান এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে গিয়ে একাধিক অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার চিত্র উঠে আসে।
প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতির সময় কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসাইন খান অফিসে ছিলেন না। প্রতিমন্ত্রীর আগমনের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি কর্মস্থলে পৌঁছান। এছাড়া কার্যালয়ের মোট আটজন কর্মকর্তার মধ্যে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুজন—একজন সার্ভেয়ার ও একজন নামজারি সহকারী।
এ সময় ভূমি অফিসের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সেবা নিতে বারবার অফিসে আসতে হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। নাগরিক সেবায় এমন দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিতির সময় যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তথ্যকেন্দ্র-কাম-হেল্প ডেস্ক ঘুরে দেখে এর কার্যকারিতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী।
তবে রেকর্ড কিপিং ও ডেটা এন্ট্রি ইউনিটে তুলনামূলক সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাসময়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ের বিভিন্ন রেকর্ড রুমও পরিদর্শন করেন এবং নথি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে মিউটেশন (নামজারি) কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সার্ভার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া তথ্যকেন্দ্রকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সেখানে নির্দিষ্ট জনবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।’
পরিদর্শন শেষে ভূমি সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

