
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পার্লামেন্ট চলছে, বিরোধীদল কথা বলছে, আমরা অর্থাৎ সরকারি দল তার উত্তর দিচ্ছে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সরকারি দল ও বিরোধীদল কোনো কারণে অন্যায় দুর্নীতিকে যদি প্রশ্রয় দিই, তাহলে পার্লামেন্টে মারামারি শুরু হয়ে যাবে। এজন্য আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে প্রতিটা বাক্য বিনিময়ে ও কাজ কর্মে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নের কাশিপুর-ডামোশ গ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের মোড়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন এবং ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত এটিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যান। তিনি খাল খননে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। সকল পেশার মানুষ মিলে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন তার সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খনন শুরু করার পর সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজেই খোঁজখবর রাখতেন কিভাবে কার্যক্রম চলছে। যার কারণে খাল খনন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। যার কারণে পরবর্তীতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসতো, মানুষ চাইতো খাল খনন কর্মসূচি হোক, কিন্তু হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে এ কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১৭ বছর একটি ফ্যাসিস্ট সরকার যা থেকে বিরত থেকেছে। সেই জন্য খালের মধ্যে পলি জমে আছে, অবৈধ দখল হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এই খাল দেখভালের জন্য একটি ডিপার্টমেন্ট আছে। এই খালের জায়গা নিতে হলে ডিসির পারমিশন ছাড়া কারোর পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। অথচ গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে এ আইন মানা হয়নি। যে যার মত খালের জায়গা দখলে নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কারণ সে সময় খাল খনন কর্মসূচি চলমান ছিল। মাঝে ১৭ বছর খাল খনন ছিল না, যার ফলে রপ্তানি নেই, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। আমরা বিশ্বাস করি, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পর ক্ষমতায় এসেছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এর আগে আমাদের অনেক নেতা গুমের শিকার হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ ২০২৪ সালে জুলাইয়ের আন্দোলনে আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে সফল হয়েছিলাম।
অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন, তার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩১ দফা প্রণয়ন করেছেন। যে ৩১ দফার মধ্যে তারেক রহমান দেশের মানুষের কথা, সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। এজন্য ৩১ দফায় তারেক রহমান বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে নদী, খাল, জলাশয় খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করব। দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার পরিমাণ সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই দেশের অর্থনীতির চাবিকাঠি। সরকার কৃষকদের সহায়তা করতে চায়, যাতে তারা ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেচব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, লিজ দেওয়া কিংবা আবাদ করার মতো অনিয়ম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।
খাল খনন ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ফরিদপুর পশ্চিম অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ এবং কাজের ঠিকাদার হেমন্ত কুমার সিংহ রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ইছেরদাড়ী মোড় থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১ দশমিক ৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ মানুষ উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আমার বার্তা/এমই

